Views Bangladesh Logo

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও মানবাধিকার লঙ্ঘন অব্যাহত: জাতিসংঘের প্রতিবেদন

 VB  Desk

ভিবি ডেস্ক

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর) জানিয়েছে, বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন কেবল আওয়ামী লীগ আমলেই ঘটেনি, বরং অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও ঘটে চলেছে।

ওএইচসিএইচআর তথ্যানুসন্ধানী দলের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংস্থাটি বলছে, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে মানবাধিকার লঙ্ঘন দুটি বিস্তৃত বিভাগে বিভক্ত, যেগুলোর মধ্যে রয়েছে পুলিশ, আওয়ামী লীগ এবং গণমাধ্যমকে লক্ষ্য করে প্রতিশোধমূলক নির্যাতন এবং বিভিন্ন ধর্মীয় ও ‘আদিবাসী গোষ্ঠীর’ সদস্যদের ওপর নির্যাতন।

বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত ১০৫ পৃষ্ঠার তথ্য-অনুসন্ধান প্রতিবেদনটির ৫৩ থেকে ৫৭ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে, জুলাইয়ের গণআন্দোলনের সময় এবং পরে আওয়ামী লীগ সদস্য, পুলিশ কর্মকর্তা এবং সাংবাদিকদের ওপর প্রতিশোধমূলক নির্যাতনের মধ্যে রয়েছে পিটিয়ে হত্যা, থানা পুড়িয়ে দেয়া ও লুটপাট, আওয়ামী লীগ কার্যালয় ও দলীয় নেতাদের বাড়িতে হামলা, ধানমণ্ডি-৩২ এ শেখ হাসিনার পরিবারের বাড়ি পুড়িয়ে দেয়া, আওয়ামী লীগের নারী সদস্যদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতা এবং শেখ হাসিনার সরকার সম্পর্কিত বলে অভিযোগ তুলে সাংবাদিক এবং গণমাধ্যম হাউসে হামলা।

ওএইচসিএইচআরের প্রতিবেদনে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা নেয়ার পর থেকে ধর্মীয় ও ‘আদিবাসী সম্প্রদায়ের’ বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাও নথিভুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে হিন্দুদের বাড়ি-ঘর ও স্থাপনায় ব্যাপক হামলা এবং শেখ হাসিনা সরকারের প্রতি অনুগত থাকার অভিযোগ তুলে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী আদিবাসী সম্প্রদায়ের ওপর বাঙালিদের হামলা।

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ক্ষমতায় থাকতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার গত বছরের জুলাই-আগস্টে ছাত্রদের নেতৃত্বে গণবিক্ষোভের বিরুদ্ধে সব রাজনৈতিক যন্ত্র, নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা বাহিনীসহ নিয়মতান্ত্রিক ও নৃশংস সহিংসতা ব্যবহার করেছিল।

ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাক্ষ্য এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে প্রতিবেদনে বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের কথাও তুলে ধরা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বিচারবহির্ভূত হত্যা, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগে হাজার হাজার মানুষ গুরুতর আহত, গণগ্রেপ্তার ও আটক এবং নির্যাতন ও অন্যান্য দুর্ব্যবহার।

প্রতিবেদন অনুসারে, এই লঙ্ঘনগুলো আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আইনের অধীনে উদ্বেগ জাগিয়ে তোলে। এগুলো মানবতাবিরোধী অপরাধ ও নির্যাতনকে একক অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে, নাকি দেশি আইনেরও গুরুতর লঙ্ঘন তা নির্ধারণে আরও তদন্তের প্রয়োজন।

বিভিন্ন বিশ্বাসযোগ্য সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রতিবেদনে অনুমান করা হয়েছে, গত বছরের ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত এক হাজার ৪০০ জন নিহত হতে পারে, যাদের প্রায় ১২ শতাংশ শিশু। ১৩ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছে। হতাহতের বেশিরভাগই হয়েছে বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ