ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস
গঙ্গার পানির সুষ্ঠু বণ্টনের দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন
ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস উপলক্ষে ‘গোলামির পানি চুক্তি আর নয়, গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা চাই’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রাজশাহীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১৬ মে) বেলা ১১টার দিকে নগরীর জিরো পয়েন্ট এলাকায় বাংলাদেশ নদী বাঁচাও আন্দোলন, রাজশাহী শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এ মানববন্ধনে নদীরক্ষা, গঙ্গার পানির ন্যায্য বণ্টন এবং ফারাক্কা বাঁধের বিরূপ প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের পর থেকে পদ্মা ও দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের নদ-নদীগুলো পানিশূন্য হয়ে পড়ছে। এর ফলে পরিবেশ, কৃষি, জীববৈচিত্র্য এবং নৌ-চলাচলে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। তারা গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে সরকারকে আরও কার্যকর ও কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
বক্তারা আরও বলেন, নদী বাঁচলে দেশ বাঁচবে। তাই দেশের নদীগুলোকে রক্ষায় জাতীয়ভাবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক নদীর পানিবণ্টনে বাংলাদেশের ন্যায্য অধিকার আদায়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
এদিকে, পদ্মা বুকেই জেগে ওঠেছে মরুভূমির মতো চর। একই সময়ে প্রমত্তা শীর্ণ সরল রেখায় পরিনিত হয়েছে। সাথে তার আচরণও বদলেছে। রাজশাহীতে ২০২৫-২৬ শুষ্ক মৌসুমে পানির স্তর গত কয়েক বছরের চেয়েও দ্রুত নেমেছে। নদীতে স্বাভাবিক প্রবাহ থাকে বছরে মাত্র তিন-চার মাস; বাকি সময় জুড়ে বিশাল বালুচর। গবেষণা বলছে, ১৯৮৪ সালের তুলনায় শুষ্ক মৌসুমে পদ্মার আয়তন প্রায় ৫০% কমে গেছে। রাজশাহীর চারঘাট থেকে শরীয়তপুর পর্যন্ত হাঁটুজলও নেই, নৌকার বদলে মোটরসাইকেল চলছে চরে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. চৌধুরী সারওয়ার জাহান ভিউজ বাংলাদেশকে বলেন, "পদ্মা এখন মৃত নদী"—এর ২৫টির বেশি শাখা-উপনদী পুরোপুরি শুকিয়ে গেছে, আরও অনেকগুলো গতিপথ হারিয়েছে। ফলে বরেন্দ্র অঞ্চলে হস্তচালিত টিউবওয়েল অকেজো, গভীর নলকূপেও পানি মিলছে না। পদ্মার পানির বদলে বালুর চরের কারণে এলাকার তাপামাত্রা বহুগুনে বেড়ে যাবে। গাছপালা-জীব জস্তু পড়বে মহা বিপদে। এটা নিয়ে সরকার একটি সুন্দর ব্যবস্থা গ্রহন করা উচিত।
১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে। ওআরএফ -এর বিশ্লেষণ বলছে, চুক্তিটি শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশকে বরাদ্দের মাত্র ৬৫% পানি দিতে পেরেছে, পরিবেশগত প্রবাহ বিবেচনায় নেয়নি।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ রাশেদুল ইসলাম ভিউজ বাংলাদেশকে বলেন, ১৯৯৬ সালের চুক্তি অনুযায়ী ৭০ হাজার কিউসেক পানির মধ্যে ৩৫ হাজার কিউসেক পানি পাওয়ার কথা। এখন আমরা সেটি পায়। শুষ্ক মৌসুম হওয়ায় পানি কম মনে হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নদী বাঁচাও আন্দোলন রাজশাহী শাখার উপদেষ্টা ওয়াসিম হোসেন ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদিকুল ইসলাম স্বপন, রাজশাহী বার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট পারভেজ মেহেদী, রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি মঈনউদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক ডালিম হোসেন শান্ত, কবি ও সাংবাদিক সোহেল মাহবুব সহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ নদী বাঁচাও আন্দোলনের রাজশাহী শাখার সভাপতি ইফতেখারুল আলম মাসুদ এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে