৫.৩ মিলিমিটার পাতলা হুয়াওয়ের নতুন ট্যাব, ১৪৪ হার্টজের ওএলইডি পর্দা
পাতলা গড়ন, উন্নত ওএলইডি পর্দা এবং কাগজে লেখার কাছাকাছি অনুভূতি দেওয়ার প্রযুক্তি নিয়ে বাজারে এসেছে হুয়াওয়ের নতুন ট্যাবলেট ‘মেটপ্যাড এয়ার ২০২৬’। ১২ ইঞ্চির পর্দা, ১৪৪ হার্টজ পুনর্নবীকরণ হার এবং ‘পেপারম্যাট’ প্রযুক্তির কারণে নোট নেওয়া, আঁকাআঁকি ও বিভিন্ন ধরনের মাল্টিমিডিয়া ব্যবহারে ডিভাইসটি ব্যবহারকারীদের নজর কেড়েছে। প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট ফোনঅ্যারেনার পর্যালোচনাতেও ট্যাবটির পর্দা, নকশা ও শব্দব্যবস্থাকে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
আগের সংস্করণে আইপিএস এলসিডি প্যানেল ব্যবহার করা হলেও নতুন মডেলে দেওয়া হয়েছে ১২ ইঞ্চির ওএলইডি প্যানেল। এতে সর্বোচ্চ ১৪৪ হার্টজ পুনর্নবীকরণ হার পাওয়া যাবে। পাশাপাশি ‘পেপারম্যাট’ কাচ ব্যবহারের ফলে পর্দায় আলোর প্রতিফলন কমবে। স্টাইলাস দিয়ে লেখার সময় কাগজে কলম চালানোর কাছাকাছি অনুভূতিও পাওয়া যাবে বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
পাতলা গড়ন, ওজনও কম
নকশার দিক থেকেও মেটপ্যাড এয়ার ২০২৬ বেশ আকর্ষণীয়। ট্যাবটির পুরুত্ব মাত্র ৫ দশমিক ৩ মিলিমিটার এবং ওজন ৫০৯ গ্রাম। পেছনের অংশে ‘পার্লেসেন্ট ই-কোটিং’ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এতে ডিভাইসটির বাহ্যিক সৌন্দর্য বাড়ার পাশাপাশি দৈনন্দিন ব্যবহারে পৃষ্ঠে আঁচড় পড়ার ঝুঁকিও কিছুটা কমে বলে দাবি করা হয়েছে।
নতুন চিপসেটে পারফরম্যান্স
কর্মক্ষমতার জন্য ট্যাবটিতে ব্যবহার করা হয়েছে ৭ ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে তৈরি হাইসিলিকন কিরিন টি৯৩সি চিপসেট। সাধারণ কাজ, একাধিক অ্যাপ একসঙ্গে চালানো, ভিডিও দেখা এবং অন্যান্য দৈনন্দিন ব্যবহারে চিপসেটটির কর্মক্ষমতা সন্তোষজনক বলে পর্যালোচনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ভারী কম্পিউটিং বা উচ্চক্ষমতার কাজের ক্ষেত্রে এটি অ্যাপলের এম সিরিজ কিংবা শীর্ষস্তরের স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসরের সমপর্যায়ের কর্মক্ষমতা নাও দিতে পারে। ফলে পেশাদার পর্যায়ের ভারী কাজের জন্য ট্যাবটি বেছে নেওয়ার আগে বিষয়টি বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।
১০ হাজার ১০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার আওয়ারের ব্যাটারি
দীর্ঘ সময় ব্যবহারের জন্য মেটপ্যাড এয়ার ২০২৬-এ রয়েছে ১০ হাজার ১০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার আওয়ারের ব্যাটারি। দ্রুত চার্জের জন্য এতে ৬৬ ওয়াটের দ্রুত চার্জ প্রযুক্তি দেওয়া হয়েছে। পর্যালোচনা অনুযায়ী, প্রায় দেড় ঘণ্টায় ব্যাটারিটি পুরোপুরি চার্জ করা সম্ভব।
শব্দের ক্ষেত্রেও হুয়াওয়ে গুরুত্ব দিয়েছে। ডিভাইসটিতে রয়েছে ছয়টি স্পিকার। ফলে সিনেমা বা ভিডিও দেখা, গান শোনা কিংবা অনলাইন সভায় তুলনামূলক শক্তিশালী ও পরিষ্কার শব্দ পাওয়ার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট পর্যালোচনা।
এক নজরে মেটপ্যাড এয়ার ২০২৬
হুয়াওয়ের মেটপ্যাড এয়ার ২০২৬ ট্যাবটিতে রয়েছে ১২ ইঞ্চির ওএলইডি পর্দা, যার পুনর্নবীকরণ হার ১৪৪ হার্টজ। পর্দায় ব্যবহার করা হয়েছে পেপারম্যাট আবরণ। কর্মক্ষমতার জন্য রয়েছে ৭ ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে তৈরি হাইসিলিকন কিরিন টি৯৩সি চিপসেট। ট্যাবটির পুরুত্ব মাত্র ৫ দশমিক ৩ মিলিমিটার এবং ওজন ৫০৯ গ্রাম। এতে অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে রয়েছে হারমোনিওএস ৪.৩।
ব্যাটারির সক্ষমতা ১০ হাজার ১০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার আওয়ার এবং দ্রুত চার্জের জন্য রয়েছে ৬৬ ওয়াট চার্জিং সুবিধা। শব্দের জন্য ট্যাবটিতে রয়েছে ছয়টি স্পিকার। তবে ডিভাইসটিতে গুগল প্লে স্টোর আনুষ্ঠানিকভাবে পাওয়া যাবে না।
সুবিধার পাশাপাশি সীমাবদ্ধতাও আছে
মেটপ্যাড এয়ার ২০২৬-এর প্রধান আকর্ষণ এর ওএলইডি ও পেপারম্যাট পর্দা। যারা নিয়মিত নোট নেন, ডিজিটাল আঁকাআঁকি করেন কিংবা দীর্ঘ সময় ট্যাবের পর্দায় কাজ করেন, তাদের জন্য এই প্রযুক্তি কার্যকর হতে পারে। এর সঙ্গে ৫ দশমিক ৩ মিলিমিটারের পাতলা কাঠামো, কম ওজন এবং ছয়টি স্পিকারের শব্দব্যবস্থা বাড়তি সুবিধা হিসেবে কাজ করবে।
তবে ডিভাইসটির অন্যতম সীমাবদ্ধতা হলো গুগল মোবাইল সার্ভিসেস ও গুগল প্লে স্টোরের অনুপস্থিতি। হারমোনিওএস ৪.৩ ব্যবহার করায় অ্যান্ড্রয়েডের প্রচলিত গুগল সেবাগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে পাওয়া যাবে না। তাই গুগলের বিভিন্ন সেবার ওপর নির্ভরশীল ব্যবহারকারীদের কেনার আগে বিষয়টি ভালোভাবে বিবেচনা করতে হবে।
দাম কত?
ইউরোপের বাজারে মেটপ্যাড এয়ার ২০২৬-এর সাধারণ চকচকে কাচের সংস্করণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৪৯ ইউরো। আর পেপারম্যাট সংস্করণের দাম ৮৯৯ ইউরো। এই সংস্করণ কিবোর্ড ফোলিও অথবা এম-পেন্সিল ৩ স্টাইলাসের বান্ডেলসহ পাওয়া যাচ্ছে।
সব মিলিয়ে, পাতলা ও হালকা নকশার পাশাপাশি বড় ওএলইডি পর্দা, উচ্চ পুনর্নবীকরণ হার এবং স্টাইলাস ব্যবহারের সুবিধা চান এমন ব্যবহারকারীদের জন্য মেটপ্যাড এয়ার ২০২৬ আকর্ষণীয় বিকল্প হতে পারে। তবে গুগল প্লে ও গুগল মোবাইল সার্ভিসেস না থাকায় কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সফটওয়্যার সুবিধার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
মতামত দিন