Views Bangladesh Logo

ভোলায় নকলের সুযোগ না দেওয়ায় এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে ভাঙচুর

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ফাতেমা-মতিন মহিলা কলেজ এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রশ্ন কঠিন হওয়া এবং নকলের সুযোগ না দেওয়াকে কেন্দ্র করে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে পরীক্ষা শেষে এ ঘটনায় অন্তত ৮ থেকে ১০ জন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের দুটি শেল নিক্ষেপ করে।

কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও কেন্দ্রসচিব মহিউদ্দিন বাচ্চু জানান, সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী কেন্দ্রে কঠোরভাবে নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছিল। আইসিটি পরীক্ষার প্রশ্ন কঠিন হওয়ায় কিছু পরীক্ষার্থী নকলের সুযোগ দাবি করে। দায়িত্বরত শিক্ষকরা তাতে বাধা দিলে তারা অসদাচরণ শুরু করে। পরে পরীক্ষা শেষে বহিরাগতদের সঙ্গে নিয়ে কলেজে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, বেলা দেড়টার দিকে ৩০০ থেকে ৩৫০ জন শিক্ষার্থী কলেজে প্রবেশের চেষ্টা করে। পরে পেছনের ফটক ভেঙে লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে প্রশাসনিক ভবন, অধ্যক্ষের কক্ষ, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ও বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষে ভাঙচুর চালানো হয়। অফিস কক্ষের আসবাবপত্র ও দুটি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত যন্ত্র (এসি) ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হামলাকারীরা উত্তরপত্র ছিনিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা করলেও শিক্ষকদের বাধায় তা ব্যর্থ হয়।

এ ঘটনায় কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি শিকদার হুমায়ুন কবির, ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক মিজানুর রহমান, কয়েকজন রাজনৈতিক কর্মী ও পথচারীসহ অন্তত ৮ থেকে ১০ জন আহত হন।

চরফ্যাশন সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেহেদী হাসান বলেন, উত্তেজিত শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের দুটি শেল নিক্ষেপ করেছে।

অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে অতিরিক্ত কঠোর আচরণ করেছেন। পরীক্ষার সময় সাধারণ বিষয়েও অযথা হয়রানির কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল।

চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, প্রশ্ন কঠিন হওয়াকে কেন্দ্র করে কিছু শিক্ষার্থী এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটিয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। শিক্ষক, প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ