হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদন ‘একপেশে ও পক্ষপাতদুষ্ট’, দাবি চিফ প্রসিকিউটরের
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) সাম্প্রতিক সমালোচনাকে ভিত্তিহীন, একপেশে ও পক্ষপাতদুষ্ট বলে মন্তব্য করেছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তাঁর অভিযোগ, প্রসিকিউশন বা তদন্ত সংস্থার বক্তব্য না নিয়েই প্রতিবেদন প্রকাশ করায় সেটিকে নিরপেক্ষ বলা যায় না।
বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
সম্প্রতি শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় অভিযোগপত্র দাখিলের পর আন্তর্জাতিক আইনি মানদণ্ড নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেয় হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। সেই প্রেক্ষাপটেই চিফ প্রসিকিউটর প্রতিক্রিয়া জানান।
আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রতিবেদনটি তৈরির আগে যদি এইচআরডব্লিউ প্রসিকিউশন কিংবা তদন্ত সংস্থার সঙ্গে কথা বলত, তাহলে বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ চিত্র উঠে আসত। কিন্তু তাদের প্রকাশিত বক্তব্যে একতরফা তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। তাঁর দাবি, কোনো স্বার্থান্বেষী মহল বা মামলার আসামিপক্ষের প্রভাবেই এমন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়ে থাকতে পারে।
সাক্ষীদের জবানবন্দিতে একই ধরনের বক্তব্য থাকার বিষয়ে এইচআরডব্লিউ যে প্রশ্ন তুলেছে, সেটিও নাকচ করেন চিফ প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, একই ঘটনার একাধিক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পৃথক বিচার হলে প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীদের বর্ণনায় মিল থাকাই স্বাভাবিক। কারণ তারা একই ঘটনার সাক্ষ্য দিচ্ছেন। বরং একই ঘটনার বিষয়ে ভিন্নধর্মী বক্তব্য এলে সেটিই প্রশ্নের জন্ম দিত।
তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত একই ধরনের অপরাধ, একই ধরনের হামলা এবং একই ধরনের প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের ঘটনায় সাক্ষ্য-প্রমাণেও স্বাভাবিকভাবেই মিল থাকবে। এতে বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই।
তদন্ত ও প্রসিকিউশন দলের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্নের অবকাশ নেই বলে মন্তব্য করেন আমিনুল ইসলাম। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি), পুলিশ সুপার (এসপি) ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ ২৩ জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি প্রসিকিউশন টিমে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ফৌজদারি আইনজীবীরা কাজ করছেন।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩ বাংলাদেশের নিজস্ব আইন। ফলে দেশের বিচারক, আইনজীবী ও তদন্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমেই বিচার পরিচালিত হবে। বিদেশি বিচারক বা আইনজীবী এনে বিচার পরিচালনার কোনো বিধান বা প্রয়োজন নেই।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো অনেক সময় পূর্ণাঙ্গ তথ্য যাচাই না করেই প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে তাদের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়। তাঁর ভাষ্য, বিচারাধীন মামলার আসামিদের বক্তব্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করে কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলে তা বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়ন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে না।
মতামত দিন