জোরপূর্বক গুম বন্ধে পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান এইচআরএসএস’র
মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) সরকারকে আন্তর্জাতিক কনভেনশন অনুযায়ী গুম রোধে পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনায় সংগঠনটির মহাসচিব মুনিরুজ্জামান এ আহ্বান জানিয়েছেন। ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম দিবস সামনে রেখে এই কর্মসূচি নেয়া হয়। এসময় সংগঠনটি তাদের সাত দফা দাবি তুলে ধরে।
সংগঠনটির প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— গুম হওয়া ব্যক্তির অবস্থান দ্রুত পরিবারের সদস্যদের জানানো, প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা, প্রমাণ সংরক্ষণ ও ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের সুরক্ষা, গুম তদন্তে গঠিত স্বাধীন কমিশনকে স্থায়ী ও কার্যকর করা। এছাড়া ভুক্তভোগী পরিবারকে আইনি, আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেয়া, ভুক্তভোগীদের ব্যাংক হিসাব ও সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও রাজনৈতিক দলের সদস্যদের মানবাধিকার বিষয়ক নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেয়ার দাবি জানানো হয়। এইচআরএসএস পাঠ্যপুস্তক ও গণমাধ্যমে মানবাধিকার, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গুম বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দেয়।
গত বছর আগস্ট থেকে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত স্বাধীন কমিশন ১ হাজার ৭৫২টি গুমের ঘটনা তদন্ত করছে। এর মধ্যে এখনো ৩৩০ জন নিখোঁজ। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হিসাবেও গত এক দশকে শত শত গুমের ঘটনা ঘটেছে। ‘অধিকার’ জানায়, ২০০৯ থেকে জুন ২০২৪ পর্যন্ত ৭০৮ জন নিখোঁজ হয়েছেন। আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) বলছে, ২০০৭ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত ৬২৯ জন গুম হয়েছেন। এইচআরএসএসের হিসাবে ২০১৫ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত গুমের সংখ্যা ৩৯২ এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচের হিসাবে ২০০৯ থেকে ২০২১ পর্যন্ত প্রায় ৬০০ জন গুম হয়েছেন।
আলোচনায় কমিশনের সদস্য নূর খান লিটন বলেন, ‘গুম সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে এবং এই ধরনের মানসিকতা বদলাতে হবে।’
মানবাধিকার কর্মী ব্যারিস্টার সারা হোসেন রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, মিথ্যা মামলা ও বিনা বিচারে আটক বন্ধের অঙ্গীকার করেন। তিনি বলেন, ‘ন্যায়বিচার যদি সঠিক না হয় তবে তা নতুন অন্যায়ের জন্ম দেবে।’
জাতিসংঘ মানবাধিকার কার্যালয়ের প্রধান হুমা খান বলেন, ‘পরিবারগুলোর কষ্ট লাঘব, মিথ্যা মামলা সমাধান এবং খসড়া আইন নিয়ে ব্যাপক পরামর্শ জরুরি।’ তিনি সতর্ক করেন—তাড়াহুড়ো করে আইন করলে কিংবা শুধু কঠোর শাস্তির ওপর নির্ভর করলে তা কার্যকর হবে না, নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থা ছাড়া সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।
আলোচনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ও মানবাধিকার সংগঠনের নেতারাও অংশ নেন।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে