ইতিহাস গড়ে তাওহিদ হৃদয়ের ডাবল সেঞ্চুরি
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিলেট টেস্টে অবিশ্বাস্য এক প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখলেন তাওহীদ হৃদয়। দলের সাত উইকেট পড়ে যাওয়ার পর যখন ইনিংস হারের শঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তখন ব্যাট হাতে প্রতিরোধ গড়ে ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন এই ডানহাতি ব্যাটার। তাঁর এই কীর্তিতে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের চতুর্থ ব্যাটার হিসেবে দ্বিশতকের মাইলফলক স্পর্শ করলেন তিনি।
বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে একপর্যায়ে ১৭২ রানে পিছিয়ে ছিল। সাদমান ইসলামের চোটের কারণে ব্যাটিংয়ের জন্য বাকি ছিল মাত্র দুটি উইকেট। এমন কঠিন পরিস্থিতিতে তাইজুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে দলের হাল ধরেন হৃদয়। অষ্টম উইকেটে দুজনের ১১৭ রানের জুটি বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরার আশা দেখায়।
৩০৪ বল মোকাবিলা করে ১৯টি চার ও সাতটি ছক্কায় নিজের দ্বিশতক পূর্ণ করেন ২৫ বছর বয়সী এই ব্যাটার। টেস্টে এটিই তাঁর প্রথম শতক। আর প্রথম শতককেই দ্বিশতকে রূপ দিয়ে গড়েছেন নতুন ইতিহাস।
এর আগে টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম শতক হাঁকানোর ইনিংসে সর্বোচ্চ রান ছিল মুমিনুল হকের। ২০১৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেক শতকে ১৮১ রান করেছিলেন তিনি। হৃদয় সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে নিজের নাম লিখিয়েছেন নতুন ইতিহাসে।
টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে এর আগে মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল দ্বিশতক করেছিলেন। মুশফিকের রয়েছে তিনটি ডাবল সেঞ্চুরি। সাকিব ও তামিম করেছেন একটি করে। এবার তাঁদের সঙ্গে যুক্ত হলো হৃদয়ের নাম।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামেও নতুন রেকর্ড গড়েছেন হৃদয়। এই মাঠে টেস্টে এর আগে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস ছিল বাংলাদেশের মাহমুদুল হাসান জয়ের ১৭১ রান। শ্রীলঙ্কার কামিন্দু মেন্ডিসের ১৬৪ রান ছিল দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। হৃদয়ের দ্বিশতকে সেই রেকর্ডও ভেঙে গেল।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্টে কোনো বাংলাদেশি ব্যাটার এর আগে দেড়শ রানের ঘরও পেরোতে পারেননি। সেই সীমা ছাড়িয়ে প্রথমবারের মতো দ্বিশতক করলেন হৃদয়।
অষ্টম উইকেটে তাইজুলকে নিয়ে হৃদয়ের ১১৭ রানের জুটিটি বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এই উইকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ জুটি ১৪৪ রানের। ২০১৮ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মুশফিকুর রহিম ও মেহেদী হাসান মিরাজ মিলে ওই রেকর্ড গড়েছিলেন।
হৃদয়ের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ম্যাচের চিত্র বদলাতে শুরু করলেও প্রথম ইনিংসে তখনো ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে ২৫ রানে পিছিয়ে ছিল বাংলাদেশ। ফলে ইনিংসে লিড নেওয়াই ছিল স্বাগতিকদের পরবর্তী লক্ষ্য।
মতামত দিন