কীভাবে এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়, উদ্ধারে কত সময় লাগে
সেলিব্রিটি থেকে শুরু করে সাধারণ ব্যবহারকারী—এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাকিংয়ের শিকার হওয়ার ঘটনা এখন আর বিরল নয়। সাম্প্রতিক সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় এ ধরনের ঘটনার সংখ্যা বাড়তে থাকায় ব্যবহারকারীদের সতর্ক থাকার তাগিদ দিচ্ছেন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।
অ্যাকাউন্ট হ্যাকিংয়ের সবচেয়ে প্রচলিত কৌশল হলো ফিশিং। এতে হ্যাকাররা ব্যবহারকারীকে লোভনীয় কোনো ভুয়া লিংকে ক্লিক করতে প্রলুব্ধ করে এবং সেখান থেকেই লগইন তথ্য হাতিয়ে নেয়। তাই হঠাৎ অ্যাকাউন্ট বেহাত হলে আগে খেয়াল করা জরুরি—সম্প্রতি কোনো সন্দেহজনক বা আকর্ষণীয় লিংকে ক্লিক করা হয়েছিল কি না।
এ ছাড়া দুর্বল পাসওয়ার্ড ব্যবহার, অনিরাপদ নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়ে ম্যান-ইন-দ্য-মিডল আক্রমণের শিকার হওয়া কিংবা ডিভাইসে ম্যালওয়্যার প্রবেশ করিয়ে কী-লগিং সফটওয়্যারের মাধ্যমে তথ্য চুরির ঘটনাও হ্যাকিংয়ের বড় কারণ বলে জানিয়েছে বাণিজ্য সাময়িকী ফোর্বস।
হ্যাকিংয়ের সাধারণ কিছু লক্ষণ
এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলে প্রথম যে বিষয়টি চোখে পড়ে, তা হলো অনুমোদন ছাড়া টুইট বা পোস্ট। হ্যাকাররা অনেক সময় স্প্যাম বা ফিশিং লিংক পোস্ট করে, যেখানে আর্থিক লাভ, বিটকয়েন স্ক্যাম, ডায়েট পণ্য বা ভুয়া প্রতিযোগিতার প্রলোভন থাকে।
অ্যাকাউন্টে অপ্রত্যাশিত আচরণও হ্যাকিংয়ের ইঙ্গিত হতে পারে। হ্যাকাররা নিয়ন্ত্রণ পেলে ডিরেক্ট মেসেজ পাঠাতে পারে, ফলোয়ার বা ফলোয়িং তালিকায় পরিবর্তন আনতে পারে কিংবা ব্যবহারকারীর অজান্তে তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ অনুমোদন দিয়ে দেয়।
এক্স কর্তৃপক্ষ কোনো অস্বাভাবিক কার্যক্রম বা অননুমোদিত লগইন চেষ্টার তথ্য পেলে ব্যবহারকারীর ইমেইলে সতর্কবার্তা পাঠায়। এ ধরনের ইমেইল উপেক্ষা করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
পাশাপাশি হঠাৎ করে পাসওয়ার্ড কাজ না করা বা পাসওয়ার্ড রিসেটের নোটিফিকেশন পাওয়া গেলে সেটিও অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার স্পষ্ট সংকেত হিসেবে ধরা হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে হ্যাকাররা পরিচয় চুরির মাধ্যমে আর্থিক ক্ষতিও করতে পারে। ব্যাংক বা ক্রেডিট কার্ডে অজানা চার্জ, ক্রিপ্টো ওয়ালেট থেকে সন্দেহজনক লেনদেন কিংবা অচেনা ইমেইল আসাও ঝুঁকির লক্ষণ।
এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলে সঙ্গে সঙ্গে যা করবেন
এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুরুতেই অন্য কোনো ডিভাইস বা নিরাপদ ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে এক্সে লগইন করার চেষ্টা করতে হবে। ঢুকতে পারলে সঙ্গে সঙ্গে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা জরুরি। নতুন পাসওয়ার্ড এমন হতে হবে, যা আগে কোথাও ব্যবহার করা হয়নি এবং যথেষ্ট শক্তিশালী।
এরপর অ্যাকাউন্টে যুক্ত ইমেইল ঠিকানা ও ফোন নম্বর ঠিক আছে কি না যাচাই করা প্রয়োজন। অনেক সময় হ্যাকাররা নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর এগুলো বদলে দেয়। লগইন সম্ভব হলে Settings থেকে Security and account access অপশনে গিয়ে Apps and sessions অংশে ঢুকে সব সন্দেহজনক ডিভাইস ও তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ সরিয়ে দিতে হবে।
নিরাপত্তা জোরদার করতে দুই ধাপের যাচাইকরণ বা টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (2FA) চালু করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এর মধ্যে অ্যাপ-ভিত্তিক 2FA তুলনামূলকভাবে বেশি নিরাপদ বলে ধরা হয়।
লগইন সম্ভব না হলে কী করবেন
যদি কোনোভাবেই অ্যাকাউন্টে ঢোকা না যায়, তাহলে এক্সের অফিসিয়াল Account Recovery ফর্মে রিপোর্ট করতে হবে। সেখানে উল্লেখ করতে হবে যে অ্যাকাউন্টটি হ্যাক হয়েছে এবং ইমেইল বা পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে যে ইমেইল ঠিকানায় আগে অ্যাকাউন্টটি নিবন্ধিত ছিল, সেটিই ব্যবহার করতে হবে।
একই পাসওয়ার্ড যদি ইমেইল, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা অন্য কোনো অনলাইন সেবায় ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তাহলে সেগুলোর পাসওয়ার্ডও সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন করা অত্যন্ত জরুরি।
অ্যাকাউন্ট উদ্ধারে কত সময় লাগতে পারে
অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারে সময় লাগা নির্ভর করে সমস্যার ধরন এবং ব্যবহারকারীর দেওয়া তথ্য কতটা সঠিক তার ওপর। সাধারণ পরিস্থিতিতে, যদি শুধু পাসওয়ার্ড বদলে যায় এবং ইমেইল ব্যবহারকারীর নিয়ন্ত্রণে থাকে, তাহলে কয়েক মিনিট থেকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অ্যাকাউন্ট ফিরে পাওয়া সম্ভব।
মাঝারি জটিলতার ক্ষেত্রে, যেমন ইমেইল বা ফোন নম্বর পরিবর্তন হয়ে গেলে এবং রিকভারি ফর্ম জমা দিতে হলে সাধারণত দুই থেকে সাত কার্যদিবস সময় লাগতে পারে। আর জটিল পরিস্থিতিতে, যদি হ্যাকার সব তথ্য বদলে দেয়, অতিরিক্ত যাচাইকরণ প্রয়োজন হয় বা অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে সাসপেন্ড হয়ে যায়, তাহলে এক থেকে তিন সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
ফোর্বসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্রুত প্রতিক্রিয়া ও সচেতন ব্যবহার অভ্যাস এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি কমাতে পারে এবং সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতি এড়াতে বড় ভূমিকা রাখে।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে