চোরাইকৃত ফোন কেনা থেকে সতর্ক থাকার উপায়
বাংলাদেশে ব্যবহৃত বা সেকেন্ড-হ্যান্ড স্মার্টফোনের বাজার দ্রুত বড় হলেও এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে চুরি হওয়া ও অবৈধভাবে আনা ফোনের ঝুঁকি। ২০২৬ সালে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (NEIR) ব্যবস্থা আরও কঠোরভাবে কার্যকর করায় এখন অবৈধ বা নিবন্ধনহীন ফোন যেকোনো সময় মোবাইল নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে অনেক ক্রেতাই কম দামে ফোন কিনতে গিয়ে ‘ডিজিটাল ব্রিকিং’-এর ঝুঁকিতে পড়ছেন। অর্থাৎ ফোন চালু থাকলেও গ্রামীণফোন, রবি বা বাংলালিংকের মতো অপারেটরের নেটওয়ার্কে সেটি আর কাজ করবে না।
কেন IMEI যাচাই জরুরি
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, ফোন কেনার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো IMEI নম্বর যাচাই করা। প্রতিটি ফোনের আলাদা ১৫ সংখ্যার IMEI নম্বর থাকে।
এটি জানতে ফোনে *#06# ডায়াল করতে হয়। এরপর পাওয়া নম্বরটি যাচাই করতে মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে লিখতে হবে: KYD [space] IMEI নম্বর এবং পাঠাতে হবে 16002 নম্বরে।
ফেরত মেসেজে যদি “IMEI not found” দেখায়, তাহলে সেটি চোরাই, অবৈধ আমদানি করা বা ভবিষ্যতে নেটওয়ার্কে নিষিদ্ধ হতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ফোন কেনার আগে যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু সফটওয়্যার নয়—ফোনের বাহ্যিক দিকও ভালোভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
বর্তমানে বাংলাদেশে অফিসিয়ালি বিক্রি হওয়া ফোনের বক্সে বিটিআরসি অনুমোদিত হলোগ্রাম স্টিকার থাকে। ফোনের বক্সে থাকা IMEI নম্বর ও ডিভাইসের IMEI নম্বর এক না হলে সেটিকে সন্দেহজনক হিসেবে দেখা উচিত।
এ ছাড়া নতুন নিয়ম অনুযায়ী *16001# ডায়াল করে কোনো জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) সঙ্গে কোন ফোনগুলো নিবন্ধিত আছে, সেটিও যাচাই করা যায়। বৈধ বিক্রেতাদের এ তথ্য দেখাতে সক্ষম হওয়ার কথা।
আইফোন ও অ্যান্ড্রয়েডে বাড়তি সতর্কতা
আইফোন বা প্রিমিয়াম অ্যান্ড্রয়েড ফোন কেনার সময় অবশ্যই নিশ্চিত হতে হবে যে বিক্রেতা “Find My iPhone” বা Factory Reset Protection (FRP) লক খুলে দিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব লক চালু থাকলে সেটি চুরি হওয়া ফোন হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কারণ প্রকৃত মালিক ছাড়া অনেক সময় এই লক খোলা সম্ভব হয় না।
অফিসিয়াল ফোন কেনার সুবিধা বেড়েছে
২০২৬ সালে অফিসিয়াল ও গ্রে-মার্কেট ফোনের পার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়েছে। অবৈধভাবে আনা ফোন অনেক সময় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ কম দামে বিক্রি হলেও, সেগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি এখন অনেক বেশি।
অন্যদিকে অফিসিয়াল ফোনে পাওয়া যাচ্ছে বৈধ ওয়ারেন্টি, ব্র্যান্ড সাপোর্ট, ভালো রিসেল ভ্যালু এবং দেশের মোবাইল নেটওয়ার্কে নিশ্চিন্ত ব্যবহার সুবিধা।
ক্রেতাদের জন্য সতর্কবার্তা
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফোন কেনাবেচার সময় সম্ভব হলে অনুমোদিত সার্ভিস সেন্টার বা নিরাপদ জনসমাগমস্থলে দেখা করা উচিত।
তাদের ভাষায়, “অস্বাভাবিক কম দামে ফোন বিক্রি হলে ধরে নিতে হবে এর পেছনে কোনো কারণ আছে।”
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে হাজার হাজার অবৈধ ও চুরি হওয়া স্মার্টফোন শনাক্ত করে NEIR ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্লক করা হয়েছে। কালোবাজারে মোবাইল পাচার ঠেকাতে অভিযানও অব্যাহত রয়েছে।
তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ—ফোন কেনার আগে অবশ্যই IMEI যাচাই, মালিকানা নিশ্চিতকরণ এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে