১৭ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে কীভাবে ঘরে ফিরল হারানো ৭ কুকুর, নেটদুনিয়ার তোলপাড়
তুষারপাতে ঢাকা উত্তর-পূর্ব চীনের জিলিন প্রদেশ। হাড়কাঁপানো শীত আর অনিশ্চয়তা সঙ্গী করে নিখোঁজ হয়েছিল সাতটি পোষা কুকুর। কিন্তু সব বাধা পেরিয়ে ১৭ কিলোমিটার বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে তারা যখন ঘরে ফিরল, তখন সেই দৃশ্য হার মানিয়েছে রূপালি পর্দার গল্পকেও। একটি করগি কুকুরের নেতৃত্বে এই অসমসাহসী অভিযাত্রা এখন নেটদুনিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
গত ১৫ মার্চ চাংচুনের মহাসড়কে এক অদ্ভুত দৃশ্য পথচারীদের নজরে আসে। দেখা যায়, একটি করগি কুকুরের নেতৃত্বে সুশৃঙ্খলভাবে হেঁটে চলেছে একদল কুকুর। দলে ছিল একটি গোল্ডেন রিট্রিভার, একটি ল্যাব্রাডর, একটি জার্মান শেফার্ড এবং একটি পেকিনিজ।
ভিডিওটি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার পর করগিটির নাম দেওয়া হয় ‘দাপাং’ বা আদর করে ‘মোটকু’। মাইনাস ডিগ্রির নিচে তাপমাত্রা আর বরফ জমা রাস্তায় ক্ষুধার্ত অবস্থায় তাদের এই পথচলার ভিডিওটি ইতোমধ্যে ২৩ কোটিরও বেশি বার দেখা হয়েছে।
কুকুরগুলোর বিপদের কথা ভেবে স্থির থাকতে পারেননি স্থানীয় পথকুকুর উদ্ধার কেন্দ্রের স্বেচ্ছাসেবী তং তং। ১৮ মার্চ চাংচুনে ভারী তুষারপাত শুরু হলে তিনি তাদের জীবন নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েন। হিমশীতল আবহাওয়ায় প্রাণীগুলোর নিরাপত্তার কথা ভেবে আশপাশের গ্রামে দরজায় দরজায় গিয়ে হারানো কুকুরের লিফলেট বিতরণ করেন তিনি।
দাপাংসহ তিনটি কুকুরের মালিক চাংচুনের কাছের একটি গ্রামের এক নারী। তিনি চীনা গণমাধ্যমকে জানান, চার দিন ধরে কুকুর খুঁজে প্রায় হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন, ঠিক তখনই ১৮ মার্চ দাপাং নিজে থেকে ঘরে ফিরে আসে। এরপর তিনি আশপাশের গ্রামে খোঁজ করে বাকি কুকুরগুলো পান, যেগুলো আরেক গ্রামবাসী আশ্রয় দিয়েছিলেন।
কুকুরগুলো কেন হারিয়ে গিয়েছিল তা এখনো স্পষ্ট নয়। কেউ কেউ অনুমান করেছেন সেগুলো কুকুরের মাংসের জন্য অপহরণ করা হয়েছিল, আবার কেউ মনে করেন পোষা প্রাণী হিসেবে বিক্রির উদ্দেশ্যে চুরি হয়েছিল, অথবা নিজেরাই ঘুরে বেড়াতে গিয়েছিল। জিলিন প্রদেশের পর্যটন ব্যুরো জানায়, সম্ভবত দলের জার্মান শেফার্ডটির পিছু পিছু তারা ঘুরতে গিয়ে পথ হারিয়েছিল।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম অবশ্য এই ঘটনার জনপ্রিয়তার মাঝে একটি সতর্কবার্তা দিয়েছে। তাদের মতে, ইন্টারনেটে অনুমানের ভিত্তিতে তথ্য ছড়ানো সহজ, তাই সংবাদের সত্যতা যাচাই করা জরুরি। তবে সত্য-মিথ্যার বিতর্কের ঊর্ধ্বে, সাত বন্ধুর এই ঘরে ফেরার গল্পটি মানুষের মনে প্রাণীদের প্রতি ভালোবাসা আর সহমর্মিতার এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে