যেভাবে উত্তর কোরিয়ার কৃত্রিম পাপড়ি পশ্চিমে 'মেড ইন চায়না'
পণ্যে ‘মেইড ইন চায়না’ লেখা থাকলেও সেগুলো আসলে তৈরি হয়েছে উত্তর কোরিয়ায়। বিশ্বব্যাপী বিউটি স্টোরগুলোতে এভাবেই বিক্রি হচ্ছে চোখের আইল্যাশ বা কৃত্রিম পাপড়ি। এই পাপড়ি বিক্রি করে লাখ লাখ ডলার আয় করছেও উত্তর কোরিয়া।
পুরোপুরি প্রস্তুতকৃত এইসব কৃত্রিম পাপড়ি এরপর রপ্তানি হয় একাধিক পশ্চিমা দেশসহ জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারেও। কৃত্রিম পাপড়িগুলোর প্রক্রিয়াকরণ ও প্যাকেজিং চীনে খোলাখুলিভাবেই চলছে।
চীনের সহায়তায় এই ব্যবসা করে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন তার দেশের ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর পথ পেয়ে যাচ্ছেন এবং এটি তাদের জন্য বৈদেশিক মুদ্রারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে উঠেছে।
চীনা কাস্টমসের তথ্যে দেখা গেছে, ২০২৩ সালে সীমান্ত পুনরায় খোলার পর চীনে উত্তর কোরিয়ার রপ্তানির পরিমাণ দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। উত্তর কোরিয়ার ঘোষিত প্রায় সমস্ত রপ্তানি পণ্যের গন্তব্যই চীন।
গত বছর চীনে উত্তর কোরিয়ার ঘোষিত রপ্তানির প্রায় ৬০ শতাংশ ছিল পরচুলা ও চোখের কৃত্রিম পাপড়ি। উত্তর কোরিয়া ২০২৩ সালে চীনে ১,৬৮০ টন আইল্যাশ, দাড়ি ও পরচুলা রপ্তানি করেছে, যার মূল্য প্রায় ১৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার।
আইল্যাশ কোম্পানির ১৫ জনসহ বাণিজ্য বিষয়ক আইনজীবী ও উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতি বিষয়ক বিশেষজ্ঞ মিলিয়ে ২০ জনের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
কী পদ্ধতিতে এই কাজ চলছে সে সম্পর্কে জানা যায়, চীন-ভিত্তিক ফার্মগুলো উত্তর কোরিয়া থেকে আধা-সমাপ্ত পণ্য আমদানি করে। পরে বাকি কাজ সম্পন্ন করা হয় ও প্যাকেজ করা হয় চীনের তৈরি পণ্য হিসেবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন জানান, উত্তর কোরিয়া দীর্ঘদিন ধরেই পরচুলা ও আইল্যাশ জাতীয় পণ্যগুলোর প্রধান একটি রপ্তানিকারক দেশ। তবে কোভিড মহামারির সময় রপ্তানি কমে গিয়েছিল দেশটি সীমান্ত কড়াকড়িভাবে বন্ধ রাখার কারণে।
কাস্টমস নথি ও আইল্যাশ ব্যবসায় জড়িত চারজনের তথ্যানুসারে, ২০২৩ সালে চীনের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়ার তৈরি আইল্যাশ বাণিজ্য আবারও শুরু হয়।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে