নিজের সন্তানকে কীভাবে মারতে পারল: আহাজারি বাবার
‘আকলিমা কীভাবে এটা পারল? নিজের সন্তানকে কি কেউ মেরে ফেলতে পারে?’—কথাগুলো বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন শাহীন মিয়া। রাতের আঁধারে নিজের ঘরে দুই সন্তানকে ছুরিকাঘাত করার অভিযোগ উঠেছে তার স্ত্রী আকলিমা বেগমের বিরুদ্ধে। এতে তাদের তিন বছর চার মাস বয়সী ছেলে মো. আশরাফুল ইসলাম নিহত হয়েছে। গুরুতর আহত হয়েছে সাত বছর বয়সী মেয়ে সিদরাতুল মুনতাহা।
বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার বড়চওনা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মুজিবনগর মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ আকলিমা বেগমকে আটক করেছে।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩০ বছর আগে শাহীন মিয়া নাসিমা আক্তারকে বিয়ে করেন। তাদের কোনো সন্তান না হওয়ায় নাসিমার সম্মতিতে প্রায় পাঁচ বছর আগে আকলিমাকে বিয়ে করেন শাহীন। বিয়ের পর আকলিমার আগের ঘরের মেয়ে সিদরাতুল মুনতাহাকেও নিজের সংসারে নিয়ে আসেন তিনি। বিয়ের প্রায় এক বছর পর আকলিমার ঘরে আশরাফুলের জন্ম হয়।
আশরাফুলের বয়স যখন প্রায় এক বছর, তখন আকলিমা ময়মনসিংহের ভালুকায় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি নেন। চাকরির কারণে মুনতাহা ও আশরাফুলকে বাড়িতে রেখে যান তিনি। এরপর শাহীন মিয়ার প্রথম স্ত্রী নাসিমার কাছেই দুই সন্তান বড় হতে থাকে। স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, আশরাফুল নাসিমাকে ‘মা’ বলে ডাকত।
তিন দিন আগে পোশাক কারখানা থেকে সাত দিনের ছুটি নিয়ে বাড়িতে আসেন আকলিমা। রাতে আশরাফুল বড় মা নাসিমার সঙ্গে থাকতে চাইলে এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধ হয় বলে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন জানান। পরে আশরাফুল আকলিমার ঘরেই ঘুমাতে যায়।
শাহীন মিয়া জানান, বুধবার রাত ১০টার দিকে তিনি বাড়িতে ফেরেন। আশরাফুলের ঠান্ডা-কাশি ও শ্বাসকষ্ট ছিল। বাড়িতে থাকা গ্যাস দেওয়ার মেশিন দিয়ে তাকে গ্যাস দেন তিনি। রাত সাড়ে ১১টার দিকে আকলিমা ছেলে আশরাফুলকে নিয়ে আলাদা ঘরে ঘুমাতে যান।
রাত সাড়ে ১২টার দিকে ওই ঘর থেকে দুই শিশুর কান্নার শব্দ শুনতে পান পরিবারের সদস্যরা। শাহীন মিয়ার বৃদ্ধ মা পাশের কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। কান্নার শব্দে তিনি ঘুম থেকে উঠে দরজা খুলে দেন। তখন ঘরের ভেতর গিয়ে দুই শিশুকেই আহত অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। তাদের ছুরিকাঘাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের।
শাহীন মিয়া বলেন, ‘রাত সাড়ে ১২টার দিকে ছেলে ও মেয়ের কান্না শুনি। আমার মা ঘুম থেকে উঠে ঘরের দরজা খুলে দেন। গিয়ে দেখি দুই সন্তানকেই কুপিয়েছে আকলিমা।’
পরে পরিবারের লোকজন আকলিমাকে আটক করে বাড়ির উঠানে বেঁধে রাখেন এবং পুলিশে খবর দেন। পুলিশ গিয়ে তাকে থানায় নিয়ে যায়।
আহত দুই শিশুকে স্থানীয় লোকজন প্রথমে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আশরাফুলকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত মুনতাহাকে পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সখীপুর থানার উপপরিদর্শক শাহিনুর রহমান বলেন, দুই সন্তানকে ছুরি দিয়ে আঘাত করার পর আকলিমা নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তার বাঁ হাতে ছুরির আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
সখীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আজহারুল ইসলাম জানান, নিহত আশরাফুলের বাবা শাহীন মিয়া বাদী হয়ে এ ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
মতামত দিন