চান্দিনায় হঠাৎ ঘরে ঢুকে গৃহকর্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা
কুমিল্লার চান্দিনায় ঘরে ঢুকে বীনা রানী রায় (৫৮) নামে এক গৃহকর্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার বরকইট ইউনিয়নের বরকইট দক্ষিণপাড়া শীল বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত বীনা রানী রায় ওই গ্রামের দিলীপ কুমার রায়ের স্ত্রী।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পরিবারের অন্য সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় চাকরি করেন, বাড়িতে থাকেন শুধু বীনা রানী ও তাঁর স্বামী। প্রতিদিনের মতো সোমবার সন্ধ্যায় পূজা-অর্চনা শেষে ঘরে বসে টেলিভিশন দেখছিলেন বীনা রানী, তখন তাঁর স্বামী দোকানে চা পান করতে গিয়েছিলেন। এ সময় কয়েকজন দুর্বৃত্ত ঘরে ঢুকে তাঁর মাথায় এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে। তাঁর চিৎকার শুনে পাশের ঘরের এক স্বজন আশপাশের লোকজনকে নিয়ে এগিয়ে আসার আগেই হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় বীনা রানীকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর কপাল ও মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, হাতুড়ি দিয়ে অথবা দেয়ালে মাথা ঠুকে তাঁকে আঘাত করা হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
নিহতের ছেলে তাপস রায় বলেন, ‘প্রতিদিনের মতো সন্ধ্যায় পূজা-অর্চনা শেষে মা ঘরে টিভি দেখছিলেন। এ সময় দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে মায়ের মাথায় পিটাতে থাকে। মায়ের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসার আগেই তারা পালিয়ে যায়। পরে মাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’ কারা এবং কী কারণে তাঁর মাকে হত্যা করেছে, সে বিষয়ে কোনো ধারণা দিতে পারেননি তিনি। তাপস বলেন, ‘কেন আমার মাকে এভাবে হত্যা করা হয়েছে, সেটা আমি জানি না। হত্যাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।’
বরকইট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূরে আলম বলেন, স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে তিনি জেনেছেন, নিহতের পরিবারের সঙ্গে আশপাশের কয়েকজনের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ আছে এবং পূর্বশত্রুতার জেরে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে তাঁর ধারণা। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয় বলে জানান তিনি। দ্রুত ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।
চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। মঙ্গলবার ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়নি, তবে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি। কী কারণে এবং কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তিনি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।
মতামত দিন