বিশ্বকাপ ফাইনালে ইতিহাস, এক মঞ্চে থাকছে ৪ বিশ্বতারকা
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল শুধু ফুটবলের লড়াই নয়, বিনোদনের ইতিহাসেও নতুন অধ্যায় লিখতে যাচ্ছে। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে আয়োজন করা হচ্ছে সুপার বোল–ধাঁচের হাফটাইম শো। আর সেই মঞ্চে একসঙ্গে পারফর্ম করবেন চার বিশ্বতারকা—জাস্টিন বিবার, ম্যাডোনা, শাকিরা ও দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় ব্যান্ড বিটিএস।
এর আগে ম্যাডোনা, শাকিরা ও বিটিএসের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছিল ফিফা। এবার তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন কানাডীয় পপ তারকা জাস্টিন বিবার। ফলে একই মঞ্চে চার প্রজন্মের চার বৈশ্বিক সংগীতশক্তিকে দেখার সুযোগ পাবেন দর্শকরা।
আগামী ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপের ফাইনাল। ম্যাচের বিরতিতে প্রায় ১১ মিনিটের এই বিশেষ হাফটাইম শো হবে। এ আয়োজনের কারণে প্রচলিত ১৫ মিনিটের বিরতি কিছুটা বাড়ানো হতে পারে।
অনুষ্ঠানটির সৃজনশীল পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন কোল্ডপ্লে ব্যান্ডের প্রধান গায়ক ক্রিস মার্টিন। তার তত্ত্বাবধানে আরও পারফর্ম করবেন নাইজেরিয়ার গ্র্যামিজয়ী শিল্পী বার্না বয়, বিশ্বখ্যাত অর্কেস্ট্রা কন্ডাক্টর গুস্তাভো দুদামেল, কোল্ডপ্লে, নিউইয়র্কের পিএস২২ শিশু কোরাস এবং বিশেষ উপস্থিতি থাকবে সেসেম স্ট্রিট ও দ্য মাপেটস–এর জনপ্রিয় চরিত্রগুলোর।
ফিফার আশা, বিশ্বের প্রায় ২০০ কোটি দর্শক টেলিভিশন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সরাসরি উপভোগ করবেন এই আয়োজন। ম্যাচের পাশাপাশি হাফটাইম শোও সম্প্রচার করবে বিভিন্ন দেশের ফিফার স্বত্বাধিকারী সম্প্রচারমাধ্যম ও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম।
এই আয়োজনের একটি সামাজিক লক্ষ্যও রয়েছে। হাফটাইম শোর মাধ্যমে ‘ফিফা গ্লোবাল সিটিজেন এডুকেশন ফান্ড’-এর জন্য ১০ কোটি মার্কিন ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই অর্থ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা ও ফুটবল খেলার সুযোগ সম্প্রসারণে ব্যয় করা হবে।
সুপার বোলের হাফটাইম শো দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত বিনোদন আয়োজনগুলোর একটি। সেই ধারণাকেই এবার প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে নিয়ে আসছে ফিফা। ফলে ১৯ জুলাইয়ের ফাইনাল শুধু বিশ্বসেরা ফুটবল দল নির্ধারণের লড়াই নয়, সংগীত, বিনোদন ও বৈশ্বিক সংস্কৃতিরও এক ঐতিহাসিক আয়োজন হয়ে উঠতে যাচ্ছে।
মতামত দিন