Views Bangladesh Logo

টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ে ইতিহাস, প্রথমবারের মতো সপ্তম স্থানে বাংলাদেশ

Sports Desk

ক্রীড়া ডেস্ক

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল টেস্ট ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস গড়েছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সর্বশেষ টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ে দুই ধাপ এগিয়ে সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। দেশের টেস্ট ইতিহাসে এটিই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ অবস্থান।

এর আগে ২০১৮ সালে অষ্টম স্থানে উঠেছিল বাংলাদেশ। এবার সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।

সর্বশেষ হালনাগাদ র‍্যাঙ্কিংয়ে নবম স্থান থেকে সরাসরি সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে দুই ধাপ পিছিয়ে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম স্থানে নেমে গেছে পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দল। এক ধাপ পিছিয়ে নবম স্থানে নেমেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ জাতীয় ক্রিকেট দল।

এই অগ্রগতির পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে সিলেটে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের দাপুটে জয়।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় টেস্টে পাকিস্তানকে ৭৮ রানে হারিয়ে দুই ম্যাচের সিরিজ ২–০ ব্যবধানে নিজেদের করে নেয় বাংলাদেশ। এর মধ্য দিয়ে সফরকারী পাকিস্তানকে টেস্ট সিরিজে ‘বাংলাওয়াশ’ করল টাইগাররা।

চতুর্থ দিন শেষে জয়ের জন্য ১২১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৭ উইকেটে ৩১৬ রান করেছিল পাকিস্তান। শেষ দিনে তাদের প্রয়োজন ছিল আরও ১০৪ রান, হাতে ছিল মাত্র ৩ উইকেট। অন্যদিকে বাংলাদেশের দরকার ছিল শেষ তিনটি উইকেট।

ভেজা আউটফিল্ডের কারণে পঞ্চম দিনের খেলা শুরু হয় নির্ধারিত সময়ের ১৫ মিনিট পরে। শুরুতে মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সাজিদ খান ধৈর্য ধরে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। তবে বাংলাদেশের বোলাররা শুরু থেকেই চাপ ধরে রাখেন।

দীর্ঘ প্রতিরোধের পর গুরুত্বপূর্ণ ব্রেকথ্রু এনে দেন তাইজুল ইসলাম। তিনি ২৮ রান করা সাজিদ খানকে স্লিপে শান্তর হাতে ক্যাচ বানিয়ে জুটি ভাঙেন।

এরপর ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট তৈরি করেন শরিফুল ইসলাম। সেঞ্চুরির খুব কাছে থাকা রিজওয়ানকে ফিরিয়ে দিয়ে ম্যাচ পুরোপুরি বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে এনে দেন তিনি। রিজওয়ানের বিদায়ের পর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি পাকিস্তান।

পরের ওভারেই খুররাম শাহজাদকে আউট করেন তাইজুল। শেষ পর্যন্ত ৩৫৮ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান।

পুরো ইনিংসে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের নেতৃত্ব দেন তাইজুল ইসলাম। তিনি একাই শিকার করেন ৬ উইকেট। এছাড়া নাহিদ রানা নেন ২টি উইকেট। শরিফুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ নেন ১টি করে উইকেট।

স্পিন ও পেসের দারুণ সমন্বয়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপকে পুরো সময় চাপে রাখে বাংলাদেশ।

ঘরের মাঠে পাকিস্তানের মতো শক্তিশালী দলকে হোয়াইটওয়াশ করে নতুন ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু একটি সিরিজ জয় নয়—বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের মানসিকতা, ধারাবাহিকতা ও আত্মবিশ্বাসের বড় পরিবর্তনের প্রতিফলন।

ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখিয়ে টাইগাররা প্রমাণ করেছে, এখন তারা টেস্ট ক্রিকেটে বড় দলগুলোর জন্যও শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ