Views Bangladesh Logo

ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস আজ, নেই রাষ্ট্রীয় আয়োজন

আজ ১৭ এপ্রিল, ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার লক্ষ্যে গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে শপথ গ্রহণ করে। পরবর্তীতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে বৈদ্যনাথতলার নামকরণ করা হয় ‘মুজিবনগর’ এবং সরকারটি পরিচিতি পায় ‘মুজিবনগর সরকার’ হিসেবে। দেশের বাইরে থেকে কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় এটি ‘প্রবাসী সরকার’ নামেও খ্যাত।

তবে এই দিবসটি উপলক্ষে এবার কোনো রাষ্ট্রীয় আয়োজন নেই।

এদিকে, মুজিবনগরকে কেন্দ্র করে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ৩৬ একর জমির ওপর আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পটি বর্তমানে স্থবির হয়ে আছে। সেখানে নির্মিত অবকাঠামো, স্থাপত্যশৈলী ও ভাস্কর্যগুলো পড়ে আছে অযত্ন-অবহেলায়।

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর একদল দুর্বৃত্ত মুজিবনগরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে নির্মিত একাধিক ভাস্কর্য ভেঙে ফেলে। ভাঙা এসব ভাস্কর্য এখন ইতিহাসের নির্মম সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর ১০ এপ্রিল আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত হয় মুজিবনগর সরকার। ১৭ এপ্রিল বৈদ্যনাথতলার মুক্তাঞ্চলে বিপুলসংখ্যক বিদেশি সাংবাদিকের উপস্থিতিতে এ সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

সেদিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করা হলেও তার অনুপস্থিতিতে সৈয়দ নজরুল ইসলাম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। তাজউদ্দীন আহমদ প্রধানমন্ত্রী, খন্দকার মোশতাক আহমাদ পররাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রী, এ এইচ এম কামরুজ্জামান স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসনমন্ত্রী এবং ক্যাপ্টেন মনসুর আলী অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এ ছাড়াও এমএজি ওসমানিকে মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আবদুল মান্নান এমএনএ এবং স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন অধ্যাপক ইউসুফ আলী এমএনএ। অনুষ্ঠানে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয় এবং মুজিবনগরকে অস্থায়ী রাজধানী ঘোষণা করা হয়।

মুজিবনগর সরকারই পরবর্তীতে নয় মাসব্যাপী যুদ্ধ পরিচালনার মাধ্যমে ছিনিয়ে আনে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় পতাকা।

এ প্রসঙ্গে মেহেরপুরের বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা সামসুল আলম সোনা বলেন, ‘মুজিবনগর সরকারের গুরুত্ব ঐতিহাসিক। এটি দেশের স্বাধীনতার কেন্দ্রবিন্দু। মুজিবনগরকে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা উচিত। রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির ঊর্ধ্বে উঠে একে জাতির তীর্থস্থান হিসেবে দেখা প্রয়োজন।’

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ