এআই ব্যবহার করে লিমন-বৃষ্টির লাশ গুমের উপায় খুঁজেছিলেন হিশাম: প্রসিকিউটর
যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টিকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়া (২৬) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে লাশ গুমের উপায় সম্পর্কে তথ্য খুঁজেছিলেন বলে দাবি করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।
আদালতে দাখিল করা নথির বরাতে প্রসিকিউটর জানান, হত্যাকাণ্ডের কয়েকদিন আগে হিশাম অনলাইন এআই প্ল্যাটফর্মে এমন প্রশ্ন করেন—একজন মানুষকে ময়লার ব্যাগে ভরে ডাস্টবিনে ফেললে কী হয় এবং এটি কীভাবে শনাক্ত করা সম্ভব। ওই এআই প্ল্যাটফর্মের উত্তর ছিল বিষয়টি বিপজ্জনক।
ঘটনাটি ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে। তদন্ত পরিচালনা করছে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ’স অফিস।
নথিতে আরও বলা হয়, ১৩ এপ্রিল হিশাম এ ধরনের প্রশ্ন করেন, যা লিমন ও বৃষ্টি নিখোঁজ হওয়ার কয়েকদিন আগের ঘটনা। পরে তদন্তে দেখা যায়, ১৬ এপ্রিল দুজনই নিখোঁজ হন।
রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, হিশাম লিমনের রুমমেট ছিলেন এবং তিনি জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টিকে হত্যার পর দেহ গোপনের চেষ্টা করেন।
তদন্তে আরও জানা যায়, ডাস্টবিন ও অ্যাপার্টমেন্ট থেকে পাওয়া কিছু বস্তুতে ডিএনএ পরীক্ষায় লিমন ও বৃষ্টির সঙ্গে মিল পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে রক্তের চিহ্ন ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের ধারণা, বৃষ্টির অবস্থান এখনো নিশ্চিত করা যায়নি এবং তার জীবিত থাকার কোনো প্রমাণও পাওয়া যায়নি। এদিকে তদন্ত চলাকালে সেতুর কাছে থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পর হিশাম বিভিন্ন তথ্য গোপন ও বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন। তবে আসামিপক্ষ এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।
মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত আছে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে