পাঁচ দিন পর হিলি স্থলবন্দরে ফিরছে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম
পাঁচ দিন বন্ধ থাকার পর আবারও সচল হতে যাচ্ছে হিলি স্থলবন্দর। ভারতীয় ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের পর আগামীকাল শনিবার থেকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এই বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানি স্বাভাবিক হওয়ার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা, প্রশাসনিক জটিলতা ও বন্দরের অবকাঠামোগত সমস্যার অভিযোগে গত ৩০ আগস্ট থেকে হিলি দিয়ে সব ধরনের পণ্য রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছিলেন ভারতের ব্যবসায়ীরা। একই সময়ে বাংলাদেশ থেকেও পণ্য আমদানি বন্ধ রাখা হয়। এতে স্থলবন্দরে বাণিজ্যিক কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়ে এবং কর্মহীন হয়ে পড়েন সংশ্লিষ্ট অনেক শ্রমিক।
বৃহস্পতিবার বিকেলে ভারতের বালুরঘাটে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের কয়েক দফা বৈঠক হয়। সেখানে বন্দরের অবকাঠামো, বাংলাদেশে পণ্য পাঠানোর ক্ষেত্রে বিভিন্ন বাধা এবং প্রশাসনিক জটিলতাসহ ব্যবসায়ীদের উত্থাপিত নানা সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা হয়। এসব সমস্যা সমাধানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস পাওয়ার পর ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন ব্যবসায়ীরা।
ভারতের হিলি এক্সপোর্টার অ্যান্ড কাস্টমস ক্লিয়ারিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি বিকাশ মণ্ডল জানান, জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠকে ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। প্রশাসনের আশ্বাসের পর অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে। শুক্রবার বাংলাদেশে সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় শনিবার থেকে বন্দরের কার্যক্রম চালু হবে।
তিনি আরও জানান, সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর বালুরঘাট সফরের সময় অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক বৈঠকেও ব্যবসায়ীরা হিলি স্থলবন্দরের আধুনিকায়ন, দুই দেশের বাণিজ্য সহজ করা এবং বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করার দাবি জানান। পরে জেলা প্রশাসনকে বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর পরই ব্যবসায়ীদের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে বাংলাদেশের হিলি কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহীনুর ইসলাম মণ্ডল বলেন, ভারতীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের বৈঠকের বিষয়টি তারা জেনেছেন। তবে বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্তের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য তাদের জানানো হয়নি।
তিনি বলেন, দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ করা এবং বিভিন্ন জটিলতা নিরসনের দাবিতে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের ধর্মঘটের যৌক্তিকতা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে হিলি স্থলবন্দরকেন্দ্রিক বাণিজ্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে দুই দেশের ব্যবসায়ীরাই আরও ক্ষতির মুখে পড়বেন।
মতামত দিন