অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ই সর্বোচ্চ দুর্নীতি হয়েছে: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ই দেশে সর্বোচ্চ দুর্নীতি হয়েছে বলে জাতীয় সংসদে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। একই সঙ্গে ওই সময়ের দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) নির্দেশ দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে লাগামহীন দুর্নীতি হয়েছে। আমি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানাই, সেই সময়কার দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে দুদককে নির্দেশ দেওয়া হোক।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সর্বোচ্চ দুর্নীতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সেই অস্থির সময়ের পর আমাদের জাতীয় স্বার্থে নির্বাচন আয়োজন করতে হয়েছে। সে কারণেই জুলাই সনদে স্বাক্ষর করা হয়েছে।
তবে টিআইবির একই প্রতিবেদনে বর্তমান সরকারের সময়েও দুর্নীতির অভিযোগ উঠে এসেছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত ১৮ মাসে কোথায়, কীভাবে এবং কারা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তাঁর ভাষায়, বর্তমান সরকার স্বচ্ছতার ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং দুর্নীতির যেকোনো অভিযোগই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা উচিত।
অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে প্রণীত শ্বেতপত্র অনুযায়ী ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত গণতান্ত্রিক জবাবদিহির অভাবে দেশে লুটপাটনির্ভর অর্থনীতি ও গোষ্ঠীকেন্দ্রিক পুঁজিবাদের বিকাশ ঘটে।
তিনি আরও বলেন, ওই সময়ে প্রতিবছর গড়ে ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে, যা ১৫ বছরে প্রায় ২৯ থেকে ৩০ লাখ কোটি টাকার সমপরিমাণ। একই সময়ে ব্যাংক খাতে ঋণ কেলেঙ্কারি, রাজনৈতিক প্রভাবে ব্যাংক দখল এবং মেগা প্রকল্পগুলোর ব্যয় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মতামত দিন