Views Bangladesh Logo

জেলেদের কাছ থেকে মাসোহারা আদায়ের দৃশ্য ধরা পড়ল গোপন ক্যামেরায়

বরগুনার পাথরঘাটায় চরদুয়ানী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে মাছ ধরার ট্রলার ও পণ্যবাহী ছোট জাহাজ থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে জেলের ছদ্মবেশে অনুসন্ধানে যাওয়া এক স্থানীয় সাংবাদিকের কাছ থেকেও টাকা নেওয়ার ঘটনা গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে নৌ-পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বলেশ্বর ও বিষখালী নদীতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাছ ধরেন হাজারো জেলে। কাঙ্ক্ষিত মাছ না পাওয়া, ঋণের চাপ ও বাড়তি ব্যয়ের কারণে তারা এমনিতেই আর্থিক সংকটে রয়েছেন। এর মধ্যেই নৌ-পুলিশের নামে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগে জেলেদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

পাথরঘাটা উপজেলা মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১৬ হাজার ৮২০ জন। তবে বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির দাবি, নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত মিলিয়ে এ এলাকায় প্রায় ৩০ হাজার জেলে মাছ ধরার সঙ্গে যুক্ত।

স্থানীয় জেলে ও ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, চরদুয়ানী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির কয়েকজন সদস্য নদী ও সাগরে চলাচলকারী মাছ ধরার ট্রলার এবং পণ্যবাহী ছোট জাহাজ থেকে প্রতি মাসে দুই থেকে তিন হাজার টাকা করে আদায় করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, মাসোহারা না দিলে মিথ্যা মামলায় হয়রানি বা বিভিন্ন অজুহাতে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করা হয়।

অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে জেলের ছদ্মবেশে অনুসন্ধানে যাওয়া এক স্থানীয় সাংবাদিক গোপন ক্যামেরায় এএসআই কবির হোসেনের টাকা নেওয়ার দৃশ্য ধারণ করেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি কখনও সরাসরি, আবার কখনও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ আদায় করতেন।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে এএসআই কবির হোসেন দাবি করেন, আদায় করা অর্থের একটি অংশ ফাঁড়ির ইনচার্জসহ আরও কয়েকজনের কাছে যায়।

বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখা জেলেদের কাছ থেকে মামলার ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

তবে চরদুয়ানী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. গজ গভীর মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঘটনার দিন তিনি নদীতে ছিলেন, তাই বিষয়টি সম্পর্কে কিছু জানেন না।

পাথরঘাটা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা হাসিবুল হক জানান, জেলেদের কাছ থেকে নৌ-পুলিশের অর্থ নেওয়ার বিষয়ে আগেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভিডিওটি দেখার পর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে, যাতে জেলেরা নির্বিঘ্নে মাছ শিকার করতে পারেন।

নৌ-পুলিশের বরিশাল অঞ্চলের পুলিশ সুপার এস এম নাজমুল হক বলেন, ঘটনাটি তাদের নজরে এসেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ