মাত্র ৩৬ বছরেই চলে গেলেন ‘হিরোস’ তারকা হেইডেন প্যানেটিয়ের
জনপ্রিয় মার্কিন টেলিভিশন সিরিজ ‘হিরোস’ ও ‘ন্যাশভিল’-এর অভিনেত্রী হেইডেন প্যানেটিয়ের আর নেই। রোববার (১৬ আগস্ট) ৩৬ বছর বয়সে মারা গেছেন তিনি। তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে অভিনেত্রীর প্রতিনিধি। তবে প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ জানানো হয়নি। দক্ষিণ ক্যারোলিনার গ্রিনভিলে একটি বাসভবনে অচেতন অবস্থায় তাকে পাওয়া যায় এবং চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার পরও তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে কোনো আঘাত বা অস্বাভাবিক ঘটনার আলামত পাওয়া যায়নি।
১৯৮৯ সালে জন্ম নেওয়া হেইডেন খুব ছোট বয়সেই বিনোদন জগতে কাজ শুরু করেন। বিজ্ঞাপনে শিশুশিল্পী হিসেবে ক্যামেরার সামনে আসার পর অ্যানিমেটেড ছবি ‘এ বাগস লাইফ’-এ ডট চরিত্রে কণ্ঠ দেন তিনি। পরবর্তী সময়ে ‘রিমেম্বার দ্য টাইটানস’, ‘টাইগার ক্রুজ’সহ বিভিন্ন সিনেমা ও টেলিভিশন প্রযোজনায় অভিনয় করেন। মাত্র ১৭ বছর বয়সে ‘হিরোস’ সিরিজে ক্লেয়ার বেনেট চরিত্রে অভিনয় করে আন্তর্জাতিক পরিচিতি পান হেইডেন। ২০০৬ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত প্রচারিত সিরিজটি তাকে রাতারাতি জনপ্রিয় করে তোলে।
‘হিরোস’-এর সাফল্যের পর ‘ন্যাশভিল’ সিরিজে কান্ট্রি সংগীতশিল্পী জুলিয়েট বার্নস চরিত্রে অভিনয় করে আরও প্রশংসা কুড়ান হেইডেন। এই চরিত্রের জন্য দুইবার গোল্ডেন গ্লোব মনোনয়ন পেয়েছিলেন তিনি। সিরিজটির জন্য গানও রেকর্ড করেন অভিনেত্রী। এ ছাড়া ‘স্ক্রিম ৪’ ও ‘স্ক্রিম ৬’-এ কিরবি রিড চরিত্রে অভিনয় করে নতুন প্রজন্মের দর্শকদের কাছেও পরিচিতি পান। তার অভিনীত চলচ্চিত্রের মধ্যে ‘স্লিপওয়াকার’ ছিল শেষ দিকের কাজগুলোর একটি।
অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিজীবনের নানা কঠিন অভিজ্ঞতার কারণেও আলোচনায় ছিলেন হেইডেন। দীর্ঘদিন বিষণ্নতা, আসক্তি ও অ্যালকোহল ব্যবহারের সমস্যার সঙ্গে লড়াই করেছেন তিনি। ২০১৫ সালে ‘ন্যাশভিল’-এর শুটিং চলাকালে পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তি হন। সাবেক বাগদত্তা ও ইউক্রেনীয় বক্সার ভ্লাদিমির ক্লিচকোর সঙ্গে তার কন্যা কায়ার জন্ম হয় ২০১৪ সালে। পরে ২০১৮ সালে মেয়ের পূর্ণ হেফাজত ক্লিচকোর কাছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
নিজের জীবনের কঠিন সময়গুলো নিয়ে খোলামেলা ছিলেন হেইডেন। ২০২৬ সালে প্রকাশিত স্মৃতিকথা ‘দিস ইজ মি: অ্যা রেকনিং’-এ খ্যাতি, মাতৃত্ব-পরবর্তী বিষণ্নতা, আসক্তি ও পুনরুদ্ধারের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি। মে মাসে বইটির প্রচার অনুষ্ঠানে নিজের অভিজ্ঞতা অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার গুরুত্বের কথাও বলেছিলেন। তিনি আশা প্রকাশ করেছিলেন, তার অভিজ্ঞতা অন্যদের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
হেইডেনের আকস্মিক মৃত্যুতে হলিউডে শোক নেমে এসেছে। তার বাবা স্কিপ প্যানেটিয়ের এক বিবৃতিতে মেয়েকে অসাধারণ মানুষ হিসেবে স্মরণ করে বলেন, হেইডেন তার পরিচিত মানুষ এবং পর্দায় তাকে দেখা লাখো দর্শকের জীবনে ভালোবাসা ও আনন্দ ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। পরিবারের এই কঠিন সময়ে সবার কাছে ব্যক্তিগত সময় ও গোপনীয়তা বজায় রাখার অনুরোধও জানিয়েছেন তিনি।
মতামত দিন