প্রধানমন্ত্রীর কাছে হেফাজতের ৯ দাবি
ইসলাম, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ও পবিত্র কোরআন অবমাননা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে আইন প্রণয়নসহ ৯ দফা দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।
রোববার (৯ আগস্ট) চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় সংগঠনটির আমির শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে লিখিতভাবে এসব দাবি তুলে দেওয়া হয়।
সরকারপ্রধানের সফর উপলক্ষে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে সংবর্ধনা ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামবাদী সংবাদমাধ্যমকে ৯ দফা দাবির বিষয়টি জানান।
তিনি বলেন, ৯ দফা দাবি জানিয়ে আমরা প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমরা ক্ষমতায় এসেছি। আমরা ইসলামের পক্ষে।’ হেফাজতে ইসলামের আমির ওনাকে দোয়া করেছেন।
হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মুহাম্মাদ সাজিদুর রহমানের স্বাক্ষরিত চিঠিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে যেসব দাবি জানানো হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—
১. মহান আল্লাহ, রাসুল (সা.), পবিত্র কোরআন ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে জাতীয় সংসদে আইন পাস করা।
২. কোরআন ও সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন জাতীয় সংসদে পাস না করা।
৩. ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনায় জড়িতদের পাশাপাশি ২০২১ সালের মোদীবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করা।
৪. দাওরায়ে হাদিসের মাস্টার্সের সমমানের স্বীকৃতি কার্যকর করা এবং এর ভিত্তিতে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো।
৫. সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে ধর্মীয় শিক্ষকের শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে সরকারি মাদ্রাসার ডিগ্রির পাশাপাশি কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের ডিগ্রিকেও স্বীকৃতি দেওয়া।
৬. প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য ইসলাম ধর্ম শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা।
৭. কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে ‘অমুসলিম’ ঘোষণা, হিজবুত তাওহিদকে নিষিদ্ধ এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে দেশি-বিদেশি মিশনারিদের কথিত ‘অপতৎপরতা’ বন্ধ করা।
৮. আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আলেমদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ‘মিথ্যা’ মামলা প্রত্যাহার এবং রাষ্ট্র পুনর্গঠনে আলেম-ওলামাদের অংশীদার করা।
৯. ভারতের মাওলানা সাদ কান্ধলভীর বাংলাদেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা এবং টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমায় তার অনুসারীদের অংশগ্রহণের অনুমতি না দেওয়া।
মতামত দিন