Views Bangladesh Logo

টানা বৃষ্টিতে ফরিদপুরে মরিচ চাষে বিপর্যয়, কেজি ৩০০ টাকা ছাড়াল

টানা ভারি বৃষ্টিতে ফরিদপুরে গ্রীষ্মকালীন মরিচ চাষে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে। অতিবৃষ্টিতে বিভিন্ন উপজেলার অধিকাংশ মরিচক্ষেত পানিতে তলিয়ে গাছ পচে ও মারা যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। খুচরা বাজারে কাঁচা মরিচের দাম কেজিপ্রতি ২৮০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে ফরিদপুরে ৩ হাজার ১১২ হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ হাজার ৭০৬ টন। তবে টানা বৃষ্টিতে সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে জেলার কৃষিপ্রধান উপজেলা মধুখালী। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মাহবুব এলাহী জানান, সেখানে প্রায় ২ হাজার ৭২০ হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন মরিচের আবাদ হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টিতে অধিকাংশ জমিতে পানি জমে গাছ পচে ও মারা গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে এবং পর্যায়ক্রমে সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে।

কৃষকদের দাবি, উপজেলার প্রায় তিন-চতুর্থাংশ মরিচক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে রায়পুর, জাহাপুর ও মেগচামী ইউনিয়নে।

রায়পুর ইউনিয়নের কৃষক রোকনউজ্জামান বলেন, অতিবৃষ্টিতে তার সব মরিচগাছ নষ্ট হয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে ক্ষেত তুলে ফেলতে হচ্ছে। আরেক কৃষক ফিরোজ মিয়া জানান, সার, বীজ ও কীটনাশকের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন ব্যয় আগেই বেড়েছিল। তার ওপর বৃষ্টিতে পুরো ক্ষেত নষ্ট হওয়ায় বিনিয়োগের টাকাও উঠছে না।

এদিকে উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাজারে মরিচের সরবরাহও কমেছে। ফরিদপুর শহরের হাজী শরিয়তুল্লাহ বাজার, চকবাজার, টেপাখোলা বাজার ও হেলিপ্যাড বাজারে কাঁচা মরিচের কেজি ২৮০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

ফরিদপুর কৃষক সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মানিক মজুমদার বলেন, দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করলে আগামী মৌসুমে অনেক কৃষক মরিচ চাষে আগ্রহ হারাতে পারেন।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ