চলতি বছরের শেষেই দেশে টেকসই লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট চালুর আশা স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর
চলতি বছরের শেষ নাগাদ অথবা আগামী বছরের শুরুতেই দেশে নিয়মিত ও টেকসই লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। তিনি জানান, ন্যাশনাল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতালে এই কার্যক্রম চালুর প্রস্তুতি হিসেবে ইতোমধ্যে ৩৯ কোটি টাকার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনা হয়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে মহিলা আসন-৩-এর সরকারি দলের সদস্য রাশেদা বেগম হীরার কার্যপ্রণালি বিধির ৭১-এর আওতায় দেওয়া মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। নোটিশে দেশে লিভারসহ জটিল রোগের চিকিৎসা সহজলভ্য করা এবং অসচ্ছল রোগীদের চিকিৎসায় সরকারি সহায়তার বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের জন্য প্রয়োজনীয় পাঁচ ধরনের যন্ত্রপাতি ইতোমধ্যে হাসপাতালে পৌঁছেছে। আরও ১০ ধরনের সরঞ্জাম চলতি সেপ্টেম্বরের মধ্যেই আসবে। এসব যন্ত্রপাতি স্থাপন এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও কর্মীদের নিয়ে গঠিত টিমকে পুরোপুরি প্রস্তুত করতে প্রায় দুই মাস সময় লাগবে। এর পরই দেশে স্থায়ীভাবে লিভার প্রতিস্থাপনের সেবা চালুর লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।
রাশেদা বেগম হীরা তার বক্তব্যে জানান, লিভার রোগে আক্রান্ত হয়ে তার স্বামী মারা গেছেন। বিদেশে নেওয়ার সময় চিকিৎসার আর সুযোগ ছিল না। তিনি দেশে জটিল রোগের চিকিৎসা সম্প্রসারণের পাশাপাশি দরিদ্র রোগীদের জন্য আরও কার্যকর আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান। এর আগে সংসদে নোটিশের আলোচনায় ন্যাশনাল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতালে দ্রুত লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট চালুর দাবি জানানো হয়।
জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, লিভার ও কিডনির মতো জটিল রোগের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল হওয়ায় অনেক পরিবার চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে আর্থিক সংকটে পড়ে। কেউ কেউ জমিজমা পর্যন্ত বিক্রি করতে বাধ্য হন। এ পরিস্থিতিতে রোগীর নিজের পকেট থেকে চিকিৎসা ব্যয় এবং বিপর্যয়কর স্বাস্থ্য ব্যয় কমিয়ে আনার বিষয়টি সরকার গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।
দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকার ‘স্ট্র্যাটেজিক পারচেজিং’ ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব বা পিপিপি মডেলে বেসরকারি খাতের সক্ষমতা কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করছে বলেও জানান এম এ মুহিত। তিনি বলেন, গুরুতর অসুস্থ ও অসচ্ছল রোগীদের চিকিৎসায় আগে ৫০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হলেও চলতি বছর থেকে তা বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করা হয়েছে। অর্থের অভাবে যেন দেশের কোনো মানুষ চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন, সেটিই সরকারের লক্ষ্য।
দেশে এর আগে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা নিয়মিত ও টেকসই সেবায় রূপ পায়নি। ২০২৬ সালের শুরুতেও দেশে লিভার প্রতিস্থাপনসহ উন্নত গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি চিকিৎসা সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছিল।
মতামত দিন