‘হাসপাতালের টয়লেট পরিষ্কারের দায়িত্ব সাংবাদিকদের দেওয়া উচিত’, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তার মন্তব্যে বিতর্ক
দেশের জেলা ও উপজেলা হাসপাতালগুলোর বাথরুম ও টয়লেট পরিষ্কারের দায়িত্ব সাংবাদিকদের দেওয়া যেতে পারে—স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার এমন মন্তব্য ঘিরে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ওই মন্তব্যের পর সাংবাদিক সংগঠনগুলোর প্রতিবাদের মুখে পড়ে সমালোচনার কেন্দ্রে এসেছেন তিনি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল শাখার উপপরিচালক ডা. সৈয়দ আবু আহাম্মদ শাফী বুধবার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে প্রস্তাব করেন, আন্তঃমন্ত্রণালয় আলোচনার মাধ্যমে তথ্য মন্ত্রণালয় এবং সাংবাদিকদের দেশের ৬০০ জেলা ও উপজেলা হাসপাতালের বাথরুম, টয়লেট ও অভ্যন্তরীণ পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব অন্তত এক অর্থবছরের জন্য দেওয়া যেতে পারে। তারা সফল হলে স্থায়ীভাবেও এ দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘রাষ্ট্রের কাজ, রাষ্ট্রের জনগণের কল্যাণের কাজ যে ভালো পারবে, তাকেই দেওয়া উচিত।’
পরে অবশ্য সমালোচনার মুখে তিনি পোস্টটি মুছে ফেলেন।
এ বিষয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ডা. শাফী বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগ এককভাবে সব সমস্যার জন্য দায়ী নয়। হাসপাতালের বাথরুম ও টয়লেটের অব্যবস্থাপনার পেছনে নানা কাঠামোগত ও প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে, যা অনেক সময় সংবাদ প্রতিবেদনে যথাযথভাবে উঠে আসে না। যেহেতু আমরা পারছি না, এ ধরনের একটি আলোচনার জায়গা হতে পারে কি না, সেটাই বলেছি। কিন্তু সমস্যার প্রকৃত কারণগুলো নিয়ে খুব কম আলোচনা হয়।
তবে একজন সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন মন্তব্য কতটা শোভন—সেই প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, দায়িত্বশীল পদে থাকা কোনো কর্মকর্তা এ ধরনের মন্তব্য করতে পারেন না।
তিনি বিদেশে অবস্থান করলেও বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের নজরে আনার কথা জানান।
এদিকে বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএইচআরএফ) এক বিবৃতিতে ডা. শাফীর বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, সাংবাদিকদের হাসপাতালের টয়লেট ও বাথরুম পরিষ্কারের দায়িত্ব দেওয়ার মন্তব্য সাংবাদিকতা পেশার প্রতি অবমাননাকর এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন।
বিএইচআরএফের মতে, সাংবাদিকদের কাজ হলো জনস্বার্থে তথ্য তুলে ধরা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা। স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার দুর্বলতা বা অনিয়ম প্রকাশ করাকে বিদ্রূপের মাধ্যমে খাটো করার চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা নিয়ে সমালোচনার জবাবে এমন মন্তব্য করা একজন সরকারি কর্মকর্তার পেশাগত আচরণবিধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
মতামত দিন