ইনসুলিন বন্ধের পরামর্শে রোগীর মৃত্যু, তদন্তে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
ইনসুলিন বন্ধ করে কিটো ডায়েট ও সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের পরামর্শ দেওয়ার পর এক ডায়াবেটিস রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ তদন্তে ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একই সঙ্গে অননুমোদিত সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারের অভিযোগও খতিয়ে দেখবে কমিটি। এর মধ্যে ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের প্রতিষ্ঠান হেলথ রেভুলেশন লিমিটেডের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগও রয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখা) অধ্যাপক ডা. মো. নুরুল ইসলামের সই করা এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. ইন্দ্রজিৎ প্রসাদ গত ৫ মে অপচিকিৎসা ও অননুমোদিত সাপ্লিমেন্টের ব্যবহার রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে অভিযোগ করেন। অভিযোগটি সুষ্ঠুভাবে তদন্তের জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, সুমি বেগম নামের ৩৬ বছর বয়সী ওই নারী দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ইনসুলিন ব্যবহার করতেন। পরে অনলাইনে হেলথ রেভুলেশন লিমিটেডের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি তাকে ইনসুলিন বন্ধ করে নির্দিষ্ট শর্করাবিহীন খাদ্যতালিকা অনুসরণ এবং কিছু উচ্চমূল্যের সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের পরামর্শ দেয়। সেই পরামর্শ অনুসরণ করে ইনসুলিন বন্ধ করার পর তার ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তিনি গুরুতর ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিসে আক্রান্ত হন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২ ফেব্রুয়ারি তার মৃত্যু হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ইনসুলিন বন্ধের পরামর্শ, কিটো ডায়েট ও সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের সঙ্গে রোগীর মৃত্যুর কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নুরুল ইসলাম বলেন, কোনো অভিযোগ এলে তা আমলে নেওয়া তাদের দায়িত্ব। ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসায় সেটিও তদন্ত করা হবে। অননুমোদিত সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারের অভিযোগসহ সংশ্লিষ্ট সব বিষয় খতিয়ে দেখে সুস্পষ্ট মতামতসহ ১০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে কমিটিকে বলা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ও মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মনির-উজ-জামানকে। সদস্যসচিব স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (হাসপাতাল-১) ডা. মো. মাহমুদুর রহমান।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এম এ হালিম খান, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হাসান হাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হুরজাহান বানু এবং বারডেম হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আজিমুন্নেছা শিউলী।
কমিটির সদস্যসচিব ডা. মো. মাহমুদুর রহমান তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আহ্বায়ক ডা. মোহাম্মদ মনির-উজ-জামান বলেন, ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসাপদ্ধতি নিয়ে অনেক অভিযোগ রয়েছে। তবে কমিটি গঠনের চিঠি তিনি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পাননি।
অভিযোগের বিষয়ে ডা. জাহাঙ্গীর কবির বলেন, হেলথ রেভুলেশন লিমিটেডের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে অধিদপ্তর ব্যবস্থা নিতে পারে। তবে তাদের পক্ষ থেকেও বিষয়টি তদন্ত করা হয়েছে এবং সেই তদন্তে অভিযোগগুলোর কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন তিনি।
কিটো ডায়েটের বিষয়ে ডা. জাহাঙ্গীর কবির বলেন, রোগীর ব্যবস্থাপত্রে ভাত খাওয়ার কথা উল্লেখ ছিল। ইনসুলিন বন্ধের অভিযোগও সঠিক নয় বলে দাবি করে তিনি বলেন, রোগী তাদের কাছে আসার আগ থেকেই ইনসুলিন ব্যবহার করতেন না। উচ্চমূল্যের সাপ্লিমেন্ট দেওয়ার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।
মতামত দিন