Views Bangladesh Logo

কালীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত ৪ চিকিৎসক

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল হঠাৎ করে গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি চারজন চিকিৎসকসহ কয়েকজন কর্মকর্তার অনুপস্থিতি, ছুটির অনুমোদনে অসঙ্গতি এবং হাসপাতালের সেবায় বিভিন্ন ঘাটতি দেখতে পান।

শনিবার (৭ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে আকস্মিকভাবে হাসপাতালে প্রবেশ করেন মন্ত্রী। গাড়ি থেকে নেমেই তিনি সরাসরি হাসপাতালের ভেতরে গিয়ে কর্তব্যরতদের কাছে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কক্ষের অবস্থান জানতে চান।

পরে ওই কক্ষে গিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. রেজওয়ানা রশিদকে অনুপস্থিত দেখতে পান। এ বিষয়ে উপস্থিতদের কাছে জানতে চাইলে কেউ স্পষ্ট তথ্য দিতে পারেননি। পরে ভারপ্রাপ্ত পরিসংখ্যানবিদ পরিচয়ে মোহাম্মদ কাজী নাজমুল হক জানান, ওই কর্মকর্তা ছুটিতে রয়েছেন।

মন্ত্রী ছুটির আবেদনপত্র দেখতে চাইলে স্ক্যান করা একটি কপি দেখানো হয়, যেখানে গাজীপুর জেলার সিভিল সার্জনের অনুমোদন ছিল না। এরপর মন্ত্রী চিকিৎসকদের হাজিরা খাতা নিয়ে কনফারেন্স রুমে বসে উপস্থিতি যাচাই করেন। সেখানে চারজন চিকিৎসককে অনুপস্থিত পাওয়া যায় এবং তাদের কারও ছুটির আবেদনও পাওয়া যায়নি।

মন্ত্রী হাসপাতালে উপস্থিত হওয়ার খবর পেয়ে কয়েকজন চিকিৎসক সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতালে এসে পৌঁছান। দেরিতে আসার কারণ জানতে চাইলে তারা বিভিন্ন অজুহাত তুলে ধরেন এবং কয়েকজন মন্ত্রীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

একপর্যায়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেজওয়ানা রশিদ হাসপাতালে উপস্থিত হলে মন্ত্রী তার কাছে অনুপস্থিতির কারণ জানতে চান। তিনি অসুস্থতার কারণে ছুটিতে ছিলেন বলে জানান। তবে তার ছুটির আবেদনে পারিবারিক সমস্যার কথা উল্লেখ থাকায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মন্ত্রী। পরে তিনি মন্ত্রীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

পরিদর্শনের সময় মন্ত্রী হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং চিকিৎসা ও সেবার মান সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। ওয়ার্ডের ওয়াশরুমে সাবান বা হ্যান্ডওয়াশ না থাকায় তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বাজেট থাকার পরও কেন এসব ব্যবস্থা রাখা হয়নি—এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্টরা নিজেদের ভুল স্বীকার করেন।

এ সময় বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের সঙ্গেও কথা বলেন মন্ত্রী। তারা চিকিৎসাসেবার বিভিন্ন সমস্যা ও অভিযোগ তুলে ধরেন। মন্ত্রী সেসব অভিযোগ লিপিবদ্ধ করেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

পরে হাসপাতালের ফার্মেসি পরিদর্শন করেন এবং কর্মচারীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া শোনেন।

এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে আগাম ঘোষণা দিয়ে পরিদর্শন করা হবে না। হঠাৎ করেই ঝটিকা সফর করা হবে। কোথাও অনিয়ম পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, যারা হাসপাতালে চাকরি করবেন, তাদের সময়মতো কর্মস্থলে উপস্থিত থাকতে হবে। ঢাকায় বসবাস করে মফস্বলের হাসপাতালে চাকরি করার সুযোগ আর থাকবে না। প্রয়োজনে কর্মস্থলের কাছাকাছি থেকেই দায়িত্ব পালন করতে হবে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ