হাসপাতালের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে ক্ষুব্ধ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, ৩ দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ
নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল (ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল) পরিদর্শনকালে রান্নাঘরসহ হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ অপরিচ্ছন্ন দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি তিন দিনের মধ্যে হাসপাতালের রান্নাঘর ও অন্যান্য স্থানের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
রোববার (১৪ জুন) সকালে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ১০ জেলার জন্য নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) সেবার উদ্বোধন এবং হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় তিনি এ নির্দেশনা দেন।
নির্ধারিত সময়ের আগেই হাসপাতালে পৌঁছে মন্ত্রী চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উপস্থিতি যাচাই করেন। পরে হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখার সময় রান্নাঘরের নোংরা পরিবেশ ও অপরিচ্ছন্ন সরঞ্জাম দেখে তিনি জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মো. মশিউর রহমানের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
এ সময় তিনি সতর্ক করে বলেন, তিন দিনের মধ্যে পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি না হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে চলতি অর্থবছরের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে ৬৯ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সারাদেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৮০ হাজার নারী স্বাস্থ্যকর্মী থাকবেন।
তিনি জানান, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে গর্ভবতী মায়েদের সেবা দেবেন। একই সঙ্গে ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর সেবার মান উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় নারায়ণগঞ্জসহ দেশের ১০ জেলায় আইসিইউ সেবা চালুর কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আইসিইউ সেবা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে সংশ্লিষ্টদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, নারীদের জন্য দুটি ১ হাজার ৫০০ শয্যার বিশেষায়িত হাসপাতালসহ দেশব্যাপী ২০টি বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব হাসপাতালে কিডনি ডায়ালাইসিস, স্তন ক্যানসার চিকিৎসাসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হবে।
এ ছাড়া উপজেলা পর্যায় থেকে গুরুতর রোগীদের দ্রুত উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে স্থানান্তরের জন্য চারটি হেলিকপ্টার কেনার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

মতামত দিন