পাচারের টাকায় অপপ্রচার চালাচ্ছেন শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীরা: সারজিস আলম
জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, শেখ হাসিনা ও তার দোসররা গুজব খুঁটির ওপর দাঁড়িয়ে মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে বিভাজন তৈরির চেষ্টা করছেন। তারা পাচার করা টাকা দিয়ে বিভিন্ন গুজব সেল থেকে প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছেন। তবে দেশের মানুষ বিবেকবান হওয়ায় এই গুজবই শুধু বিনোদনের খোরাক জোগায়’।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এই সমন্বয়ক বলেন, ‘দেশের মানুষের যে লাখ-কোটি টাকা চুরি করে নিয়ে গেছেন তারা, তা দিয়েই এখন এসব প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছেন, চক্রান্ত করছেন’।
শনিবার (২৫ জানুয়ারি) সকালে পঞ্চগড় রেলস্টেশনে ফুলের বাগান ও পানির ফোয়ারার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সারজিস আলম বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তার জায়গা থেকে যেমন সচেতন থাকবে, রাজনৈতিক দলগুলোরও তাদের জায়গা থেকে সেভাবে সচেতন থাকা প্রয়োজন যে, নিজেদের ভেতরের কোনো চিন্তা কিংবা মতপার্থক্যের সুযোগ বাইরের কেউ নিচ্ছে কি না। আমরা মনে করি, সবার আগে যদি দেশের স্বার্থ চিন্তা করতে পারি, তাহলে যে স্পিরিট নিয়ে অভ্যুত্থান হয়েছে, সেই স্পিরিটে সফল হওয়া সম্ভব’।
তিনি আরও বলেন, ‘এখনকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে জাতীয় ঐক্য। জাতীয় ঐক্য গড়তে যেকোনো ব্যক্তি, দল, গোষ্ঠীর স্বার্থের আগে বাংলাদেশের স্বার্থ চিন্তা করতে হবে। আমরা যদি সেটা চিন্তা করতে পারি, তাহলে আমরা যে বাংলাদেশ প্রত্যাশা করি, এই গণআন্দোলনের যে স্পিরিট, সেটারও সফল হওয়া সম্ভব’।
সারজিস বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার কিংবা রাজনীতিতে যে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা রয়েছেন তাদের মতের মধ্যে দ্বিমত থাকবে, বৈচিত্র্য থাকবে, আবার যৌক্তিক বিষয়ে তারা ঐক্যবদ্ধ হবেন। কিন্তু আমরা যেন আমাদের এই বিভিন্ন কথা, মতামত, কিংবা পদক্ষেপের মাধ্যমে নতুন করে আবার ওই ফ্যাঁসিস্ট কিংবা তাদের কোনো দোসরদের সুযোগ না দেই’।
‘তারা তো চাইবেনই, আমাদের ঐক্যের ফাটল ঘটাতে। এই ফাটলের সুযোগে যখন আমরা নিজের সঙ্গে নিজেরা বিভাজনে লিপ্ত হবো, তারা এই সুযোগটা নিয়ে তাদের স্বার্থ হাসিল করবেন’- যোগ করেন তিনি।
সারজিস বলেন, ‘আমরা কখনোই মনে করি না যে, অন্য কোনো বা আলাদা ফরমেটের সরকার প্রয়োজন রয়েছে নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য। যেখানে ড. মুহম্মদ ইউনূস প্রধান দায়িত্বের জায়গাটিতে রয়েছেন এবং আমরা মনে করি তার হাত ধরেই বাংলাদেশে নতুন করে গণতন্ত্রের যে দ্বার উন্মোচন হওয়া প্রয়োজন, যেটি উন্মোচিত হতে পারে একটি স্বচ্ছ নির্বাচনের ভিত্তিতে। সেই স্বচ্ছ নির্বাচন আমরা বাংলাদেশের মাটিতে দেখতে পাব’।
তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বা প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহম্মদ ইউনূস এ পর্যন্ত বাংলাদেশের স্বার্থকে সামনে রেখে সব সময়ই জাতীয় ঐক্যের চিন্তা করেছেন এবং তিনি সেটি ধারণ করেন। পুরো বাংলাদেশের মানুষের কাছে তার সেই গ্রহণযোগ্যতা আছে বলেই ৫ আগস্টে পুরো বাংলাদেশের এই বিজয়ের পর আমাদের মাথায় সবার প্রথমে এই নামটি এসেছিল। এখন পর্যন্ত তিনি তার এই জায়গাটি ধরে রাখতে পেরেছেন’।
সম্প্রতি এক-এগারো প্রসঙ্গ ওঠা নিয়ে সারজিস বলেন, ‘সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে এক-এগারো কোনো স্বয়ংক্রিয় ঘটনা নয়, বিভিন্ন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে একটি গোষ্ঠী সুযোগ নিয়ে এটি ঘটাতে একসময় বাধ্য করে, প্ররোচিত করে। আমরা আমাদের জায়গা থেকে মনে করি, খুব স্বাভাবিকভাবেই রাজনীতির মাঠে পক্ষে-বিপক্ষে কথা থাকবে যেকোনো বিষয়ে। এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। এটাই গণতন্ত্রের চর্চা’।
অনুষ্ঠানে ছিলেন পঞ্চগড় জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আদম সুফি, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক সাবেক মেয়র তৌহিদুল ইসলাম, জামায়াত নেতা নাজিম উদ্দিন, বৈষম্যাবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পঞ্চগড়ের সমন্বয়ক ফজলে রাব্বি প্রমুখ।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে