ধর্ষণ ও হত্যার হুমকি পাচ্ছেন ঢাবির সেই শিক্ষার্থী
দেশের বিচার ব্যবস্থা ও পুলিশ তার স্পর্শকাতর তথ্যগুলো প্রকাশ করে দেয়ায় ক্ষুব্ধ কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সহকারী বাইন্ডার মোস্তফা আসিফের হাতে পোশাক নিয়ে হেনস্তার শিকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সেই শিক্ষার্থী।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের পোস্টে তিনি জানান, মামলার এজাহারে উল্লেখ থাকা ব্যক্তিগত তথ্যাদি থানা থেকে ছড়িয়ে পড়ার পর ধর্ষণ ও হত্যার হুমকির মুখোমুখি হচ্ছেন তিনি।
হেনস্তার শিকার ওই শিক্ষার্থী লেখেন, ‘আমার সেন্সিটিভ ইনফরমেশন পুলিশ পাবলিক করেছে। তাদের জিজ্ঞাসা করায় বলেছেন, এজাহারের কপি নাকি পাবলিক করা যায়। তাহলে এজাহারের কপিতে এতো ইনফরমেশন তারা কেন রাখেন? এগুলো অন্য আরেক জায়গায় রাখুক। আর এই বিষয়টা আমাকে শুরুতেই তারা কেন বলে দেননি? তাহলে আমি মামলা করতাম না। অসংখ্য নম্বর থেকে রেপ আর ডেথ থ্রেট দেয়া হয়েছে’।
‘কেন? প্রতিবাদ করেছি তাই। আপনারা তো ফ্যাঁসিস্ট হাসিনার চেয়ে খারাপ। আপনারা তো দেশকে নরক বানাবেন’- লিখেছেন ওই তরুণী।
বুধবার (৫ মার্চ) ঢাবি কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সহকারী বাইন্ডার অর্ণব ওই ঢাবি ছাত্রীকে ক্যাম্পাসেই পোশাক নিয়ে কুরুচিপূর্ণ কথা বলে হেনস্তা করেন। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় তাকে শনাক্ত করে প্রক্টর অফিসে নিয়ে গেলে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। শাহবাগ থানায় তাকে সোপর্দ করা হলে মব সৃষ্টি করা হয়। পরে জামিনে অর্ণব ছাড়া পান। শাহবাগ থানায় অর্ণবের বিরুদ্ধে করা মামলাটিও নানা ধরনের হুমকির মুখে তুলে নিতে বাধ্য হন হেনস্থার শিকার ওই ছাত্রী।
তবে অভিযুক্ত কর্মচারী মোস্তফা আসিফ অর্ণবকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দিয়েছে ঢাবি প্রশাসন।
দেশের বিচার ব্যবস্থার ওপর প্রশ্ন তুলে ঢাবি ছাত্রী তার ফেসবুক পোস্টে আরও লেখেন, ‘ইন্টেরিম গভমেন্টকে বলছি, দেশের বিচার ব্যবস্থা কবে পরিবর্তন করবেন? কবে আসবে আপনাদের সংস্কার? যদি না করতে পারেন, দায়িত্ব ছেড়ে দেন। কিছু মানুষ গিয়ে থানায় মব করবে, তাও এমন একজনের বিরুদ্ধে, যে নিজের দোষ স্বীকার করেছে, তাকে ছেড়ে দেয়া হবে। বাহ্ পুলিশ বাহ্। এই ঘটনা এইটাই প্রমাণ করে, দেশে অপরাধ করে, ইভটিজিং করে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ানো যাবে। ভিকটিম স্টেপ নিলেও উল্টো তাকে হয়রানি করা হবে’।
‘জুলাই গণআন্দোলনে’ প্রত্যেকদিন যাওয়ার কথা জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘ফ্রন্ট লাইনার ছিলাম না। কিন্তু রেগুলার আন্দোলনে যাওয়া ছিল আমার রুটিন’।
তিনি আরও বলেন, ‘কেন যেতাম আন্দোলনে জানেন? আমি বিসিএস দেবো না, শুধু দাবিটা যৌক্তিক তাই যেতাম’।
তৌহিদি জনতার ওপর অক্ষেপ নিয়ে স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘যারা নিজেকে তৌহিদি জনতা বলে থাকেন, ৫ আগস্টের পর নিজের ধর্মীয় লেবাসে বের হতেন, আমি নিজে এই বিষয়টাতে কতোটা খুশি হতাম। ভাবতাম যাক, সবাই ব্যক্তি স্বাধীনতা ফিরে পেয়েছে। মানুষগুলোর ওপর গত ১৬ বছর ধরে জুলুম হয়েছে। আর দেখেন, আমি যখন আমার দেশি পোশাক পরে রাস্তায় হাঁটি, তখন আপনারা আমার শরীরের সাইজ মাপেন’।
দেশ নিয়ে আর কোনো আশা নেই উল্লেখ করে তিনি লেখেন, ‘আমাদের আন্দোলন করা ভুল হয়েছে। এতোগুলো মানুষ এমনিই মারা গেছে। পারবেন, তাদের রক্তের ঋণ শোধ করতে? ভেবেছিলাম, দেশে থাকবো। বিদেশে যাবো উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে একদিন এই দেশের জন্য কিছু করবো। কিন্তু বিশ্বাস করেন, এখন এই দেশ থেকে যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব চলে গেলেই বাঁচি’।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে