Views Bangladesh Logo

হাওরের জন্য বাজেটে ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দসহ ২০ দাবি

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে হাওর অঞ্চলের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দসহ ২০ দফা দাবি তুলেছে পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থা।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে নগরের জিন্দাবাজারে টেলিভিশন সাংবাদিকদের সংগঠন ইমজার কার্যালয় মিলনায়তনে ‘২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট: হাওরবাসীর প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এসব দাবি উপস্থাপন করা হয়। সংগঠনের নেতারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, অকাল বন্যা, অতিবৃষ্টি ও ফসলহানিতে হাওরাঞ্চলের মানুষ চরম সংকটে পড়েছেন। জাতীয় খাদ্যনিরাপত্তা রক্ষায় এ অঞ্চলের জন্য বিশেষ বরাদ্দ ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা জরুরি বলে তারা মত দেন।

সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক পিযুষ পুরকায়স্থ টিটুর সঞ্চালনায় সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মাসুদ আলম।

লিখিত বক্তব্যে সভাপতি কাসমির রেজা ২০ দফা প্রস্তাব তুলে ধরে বলেন, চলতি বছরের ব্যাপক ফসলহানিতে হাওরের কৃষকেরা চরম সংকটে পড়েছেন; তাই বাজেটে এ অঞ্চলের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ রাখতে হবে। তাঁর দাবির মধ্যে আছে—জলবায়ু খাতে জিডিপির অন্তত ৩ শতাংশ বরাদ্দ, হাওরে কৃষি বীমা চালু, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা, বিল ও নদী খননে বরাদ্দ, কৃষিপণ্য সংরক্ষণে আধুনিক ড্রায়ার ও কমিউনিটি মাড়াই কেন্দ্র নির্মাণ, বজ্রপাত মোকাবিলায় কর্মসূচি, মৎস্য গবেষণাগার ও অভয়াশ্রম স্থাপন, কৃষক-জেলেদের সহায়তা বৃদ্ধি এবং হাওরাঞ্চলে পূর্ণাঙ্গ আবহাওয়া অফিস স্থাপন।
প্রধান আলোচক অধ্যাপক ড. মাসুদ আলম বলেন, হাওরের ফসলহানি দীর্ঘমেয়াদে দেশের জিডিপিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

তার মতে, বাঁধ নির্মাণই একমাত্র সমাধান নয়; খাল খনন, জলাধার সৃষ্টি ও সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি প্রকৃত কৃষক ও জেলেদের নিয়ে একটি সমন্বিত ডেটাবেজ তৈরি এবং হাওর নিয়ে গবেষণা বাড়ানোর আহ্বান জানান।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেটের সভাপতি অ্যাডভোকেট শিরীন চৌধুরী বলেন, হাওরের বিশাল জনগোষ্ঠীর বিশেষ চাহিদা বিবেচনায় বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে। আগাম ও নির্ভুল আবহাওয়া সতর্কবার্তা দিতে পারলে কৃষকের ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব বলে উল্লেখ করে তিনি হাওরের নারীদের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষায় বিশেষ বরাদ্দের দাবি জানান।

সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ইকরামুল কবির বলেন, প্রতিবছর হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে; এ দুর্নীতি বন্ধ না হলে হাওরবাসীর দুর্ভোগ কমবে না। নীতিনির্ধারকদের প্রতি প্রান্তিক মানুষের বাস্তবতা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি।

বিআইডিডির গবেষণা পরিচালক ড. শরীফ আহমদ চৌধুরী বলেন, হাওরের ফসল রক্ষায় আগাম জাতের ধানের চাষ সম্প্রসারণ করতে হবে। কৃষকের উৎপাদিত ধান ব্যাপকভাবে সরকারি ক্রয় কর্মসূচির আওতায় আনা এবং হাওরে কৃষি বীমা চালুর দাবি জানান তিনি।

সভায় আরও বক্তব্য দেন মধ্যনগর উন্নয়ন পরিষদ সিলেটের সাবেক সভাপতি মো. আমিনুল ইসলাম ও শিক্ষক লায়ন মো. মুস্তাফিজুর রহমান। বক্তারা বলেন, হাওরের খাদ্য, মাছ ও প্রাকৃতিক সম্পদ দেশের অর্থনীতি ও খাদ্যনিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে; তাই হাওরের উন্নয়ন ও জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় বিশেষ বাজেট বরাদ্দ, গবেষণা, অবকাঠামো উন্নয়ন ও কার্যকর নীতি সহায়তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।


মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ