হালান্ডের নরওয়েকে থামানোর চ্যালেঞ্জে মাঠে আইভরি কোস্ট
ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় মুখোমুখি নরওয়ে ও আইভরি কোস্ট। অভিজ্ঞতা ও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের বিচারে নরওয়ে কিছুটা এগিয়ে থাকলেও প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ওঠা আইভরি কোস্টও চমক দেখাতে প্রস্তুত।
গ্রুপ ‘আই’ থেকে ছয় পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় হয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে নরওয়ে। গ্রুপ পর্বে তারা প্রথম ম্যাচে ইরাককে ৪-১ এবং দ্বিতীয় ম্যাচে সেনেগালকে ৩-২ গোলে হারায়। শেষ ম্যাচে অবশ্য শক্তিশালী ফ্রান্সের কাছে ৪-১ গোলের ব্যবধানে হেরে যেতে হয় স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দলটিকে। তবে সেই ম্যাচে বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে বিশ্রাম দেওয়ায় পূর্ণ শক্তির দল নিয়েই আজ মাঠে নামার কথা নরওয়ের।
নরওয়ের সবচেয়ে বড় ভরসা নিঃসন্দেহে তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড। মাত্র দুই ম্যাচ খেলেই চার গোল করে তিনি টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের একজন হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ফ্রান্সের বিপক্ষে বিশ্রামে থাকলেও আজ আবারও একাদশে ফিরবেন এই গোলমেশিন। তাকে সহায়তা করবেন অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড, যিনি ইতোমধ্যেই দুটি অ্যাসিস্ট করে দলের আক্রমণভাগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
অন্যদিকে, আইভরি কোস্ট এবারের বিশ্বকাপে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়া আফ্রিকার দলটি আত্মবিশ্বাসে উজ্জীবিত। দলের অন্যতম ভরসা ১৯ বছর বয়সী উইঙ্গার ইয়ান দিওমান্দে। তার গতি, ড্রিবলিং ও সৃজনশীলতা পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে ভুগিয়েছে। কোচ এমার্স ফে বিশ্বাস করেন, শুধু একজন নয়, দলের বিভিন্ন খেলোয়াড়ের গোল করার সক্ষমতাই আইভরি কোস্টের সবচেয়ে বড় শক্তি।
তবে নরওয়ের বিপক্ষে তাদের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা হবে হালান্ডকে থামানো। সেই দায়িত্বে থাকবেন দলের নির্ভরযোগ্য সেন্টার-ব্যাক উসমান দিওমান্দে। হালান্ডকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে ম্যাচে নিজেদের সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যাবে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকেরা।
পরিসংখ্যানও নরওয়ের পক্ষেই কথা বলছে। অপটার সুপারকম্পিউটারের হিসাব অনুযায়ী, নির্ধারিত ৯০ মিনিটে নরওয়ের জয়ের সম্ভাবনা ৫৬.১ শতাংশ। আইভরি কোস্টের জয়ের সম্ভাবনা ২১.৬ শতাংশ, আর ম্যাচ অতিরিক্ত সময় বা টাইব্রেকারে গড়ানোর সম্ভাবনা ২২.৩ শতাংশ।
সব মিলিয়ে আজকের ম্যাচে একদিকে থাকবে হালান্ড-ওডেগার্ড জুটির আক্রমণ, অন্যদিকে আইভরি কোস্টের তরুণদের নির্ভীক ফুটবল। অভিজ্ঞতা নাকি তারুণ্যের সাহস—শেষ পর্যন্ত কোনটি জয়ী হয়, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।
মতামত দিন