Views Bangladesh Logo

‘গুপ্ত’ লেখার ওপর ‘নো পলিটিক্স’ ব্যানার, রুয়েটে উত্তেজনা

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) ক্যাম্পাসে দেয়াল লিখন এবং ‘নো পলিটিক্স’ লেখা একটি ব্যানার পোড়ানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) দিনভর ক্যাম্পাসে দুই পক্ষের অবস্থান কর্মসূচিতে পরিস্থিতি আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

দুপুরে প্রশাসনিক ভবনের সামনে একদল শিক্ষার্থী অবস্থান নিয়ে ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত বহাল রাখার দাবি জানান। একই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ছাত্রদল-সমর্থিত শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়ে ওই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি তোলেন।

প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি উত্থাপন করেন। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে—‘ছাত্ররাজনীতি পুনর্বহালের নামে ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করার চেষ্টা হলে সংশ্লিষ্টদের বহিষ্কার, নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক কার্যক্রম চালানোর বিষয়ে প্রশাসনের ব্যাখ্যা এবং গণভোটের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি থাকবে কি না সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ।’

আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, নিষেধাজ্ঞা জারির পরও একটি সংগঠন কীভাবে কার্যক্রম চালাচ্ছে, সে বিষয়ে প্রশাসনের সুস্পষ্ট অবস্থান জানতে চান তারা। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য গণভোট আয়োজনের দাবি জানান।

অন্যদিকে, ফটকের সামনে অবস্থান নেওয়া ছাত্রদল সমর্থকরা দাবি করেন, ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ রাখার সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক এবং এটি প্রত্যাহার করা উচিত। তারা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেওয়া ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের’ পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, ‘সাধারণ শিক্ষার্থী’ পরিচয়ের আড়ালে একটি গোপন রাজনৈতিক গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে এবং তারাই ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে আন্দোলন করছে।

শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ক্যাম্পাসে ‘গুপ্ত’সহ বিভিন্ন দেয়াল লিখন কর্মসূচি চালানো হয়। এর ওপর ‘নো পলিটিক্স’ লেখা একটি ব্যানার টানানো হলে রোববার রাতে সেটি নামিয়ে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সূত্রপাত।

ব্যানার পোড়ানোর প্রতিবাদে রাতেই একদল শিক্ষার্থী বিক্ষোভ মিছিল বের করে এবং এ ঘটনায় ছাত্রদলকে দায়ী করে। মিছিলটি জিয়া হলের সামনে পৌঁছালে সেখানে ছাত্রদল সমর্থকদের পাল্টা অবস্থানের মুখে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে শিক্ষকরা হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে রাতেই কিছু শিক্ষার্থী ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেন। এর ধারাবাহিকতায় সোমবার ক্যাম্পাসে কোনো ক্লাস-পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি।

বর্তমানে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ