বন্দরে ধর্মঘট: 'অচলাবস্থা নিরসনে হার্ডলাইনে যাচ্ছে সরকার'
চট্টগ্রাম বন্দরের চলমান অচলাবস্থা নিরসনে সরকার কঠোর অবস্থানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন নৌ-পরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বন্দর অচল করে রাখার সঙ্গে জড়িত কয়েকজনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে আরও গ্রেপ্তার করা হবে।
উপদেষ্টা বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী পুরো চট্টগ্রাম বন্দরকে জিম্মি করে রাখার চেষ্টা করছে। এভাবে পরিস্থিতি চলতে থাকলে সরকার বসে থাকবে না।
তিনি জানান, ডিপি ওয়ার্ল্ড প্রধান উপদেষ্টার কাছে একটি চিঠি দিয়ে বন্দর সংক্রান্ত চুক্তি বিষয়ে আরও সময় চেয়েছে। প্রয়োজনে নির্বাচন শেষে এ বিষয়ে আলোচনা ও দরকষাকষি চলবে।
এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো নতুন নতুন দাবি উত্থাপন করছে। সামনে নির্বাচন থাকায় সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কাও রয়েছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, কোনো একটি আসনে নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াই প্রশ্নের মুখে পড়বে।
নৌ-পরিবহন উপদেষ্টা বলেন, সরকার কোনো নির্বাচন মনিটরিং করছে না, তবে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
রমজান সামনে রেখে বন্দরের অচলাবস্থাকে গুরুতর আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, আউটার অ্যাংকরেজে ছোলা, ডাল ও তেলবাহী জাহাজ আটকে আছে। এতে করে ১৮ কোটি মানুষ কার্যত জিম্মি হয়ে পড়ছে। এই পরিস্থিতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
তিনি আরও বলেন, বন্দর সচল রাখতে কেউ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বাধা সৃষ্টি করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে, বাকিদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি হবে কি না—এমন প্রশ্নে উপদেষ্টা বলেন, বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন। ডিপি ওয়ার্ল্ড আরও সময় চেয়েছে এবং প্রয়োজন হলে নির্বাচনের পরেও আলোচনা চলবে।
বন্দর কবে নাগাদ পুরোপুরি চালু হবে—এ বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে বন্দরের চেয়ারম্যানই বিস্তারিত বলতে পারবেন।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে