শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ ব্যয় করবে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী
প্রাথমিক শিক্ষা খাতে সরকারের বিশাল বিনিয়োগ সত্ত্বেও কাঙ্ক্ষিত ফলাফল না আসায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, শিক্ষা খাতের আমূল পরিবর্তন ও মানোন্নয়নে মোট জিডিপির ৫ শতাংশ ব্যয় করতে প্রস্তুত সরকার।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে রাজধানীর বনানীতে ইউনিসেফ আয়োজিত ‘এভিডেন্স টু অ্যাকশন: বাংলাদেশে শ্রেণিকক্ষে শিখন, অন্তর্ভুক্তি ও উদ্ভাবন শক্তিশালীকরণ’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এই মন্তব্য করেন।
এহছানুল হক মিলন বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পার হলেও এখনো শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক সমস্যাগুলোর সমাধান হয়নি। শিক্ষার্থীদের শেখার সক্ষমতা, পাঠদানের মান এবং মাঠ পর্যায়ের বাস্তবায়ন নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সেমিনারে উপস্থাপিত ইউনিসেফের গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া অধিকাংশ শিক্ষার্থী পঞ্চম শ্রেণির ন্যূনতম যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। বিশেষ করে গণিতের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। জরিপে অংশ নেওয়া ৯০ শতাংশেরও বেশি শিক্ষার্থী ‘শিক্ষানবিশ’ পর্যায়ে রয়েছে; অর্থাৎ তারা পঞ্চম শ্রেণির দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য তৈরি করা অর্ধেক প্রশ্নেরও সঠিক উত্তর দিতে পারেনি। এ ছাড়া প্রায় ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থী পাঠ্যবই পড়ার প্রাথমিক দক্ষতাতেও পিছিয়ে রয়েছে।
এমন দৃশ্যপটের বিপরীতে শিক্ষামন্ত্রী উল্লেখ করেন, পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির (পিইডিপি-৫) আওতায় প্রায় ৫১ হাজার কোটি টাকা এবং পূর্ববর্তী কর্মসূচিগুলোতে প্রায় ৩২ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করেছে সরকার।
তিনি বলেন, ‘এত বিশাল অঙ্কের টাকা ব্যয়ের পর আমরা আজ যেখানে দাঁড়িয়ে আছি, তার জবাব কে দেবে?’
শিক্ষামন্ত্রী আরও যোগ করেন, কম্পিউটার ল্যাব ও মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের মতো অবকাঠামোগত উন্নয়ন সবসময় কার্যকর শিখনে রূপান্তরিত হয়নি। এই ব্যর্থতার দায় শিক্ষক, নীতিনির্ধারক এবং শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাদেরও নিতে হবে।
গবেষণালব্ধ ফলাফলগুলো যেন শুধু কাগজে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবে প্রয়োগ করা হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন মন্ত্রী। তিনি ‘আনন্দের সঙ্গে শিক্ষা’ ধারণার ওপর ভিত্তি করে শ্রেণিকক্ষে একটি আনন্দময় পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, সরকার সনদ-সর্বস্ব শিক্ষার পরিবর্তে দক্ষতানির্ভর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়। তিনি একজন শিক্ষকের জন্য একটি ট্যাবলেট, প্রযুক্তি-নির্ভর শিক্ষা, বহুভাষিক শিক্ষা এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণ সংস্কারের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন।
ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি স্ট্যানলি গোয়াভুইয়া বলেন, প্রকৃত উন্নয়ন কেবল নীতির ওপর নয়, বরং তার কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করে। তিনি শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক পাঠদান এবং তথ্য-প্রমাণ ভিত্তিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে