সেপ্টেম্বরে এলপিজির দাম কমল
সেপ্টেম্বর মাসের জন্য তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) খুচরা দাম কেজিপ্রতি ১ টাকা ৩ পয়সা কমানো হয়েছে। এতে বহুল ব্যবহৃত ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১৩ টাকা কমে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) নতুন দাম নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। একই দিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে এ দাম কার্যকর হয়েছে।
আগস্টে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৫৯৮ টাকা। এর আগে জুলাইয়ে দাম ছিল ১ হাজার ৫২৮ টাকা। ফলে চলতি মাসে দাম কমলেও জুলাইয়ের তুলনায় এখনো প্রতি সিলিন্ডারে ৫৭ টাকা বেশি দিতে হবে ভোক্তাদের।
পাইপলাইনে প্রাকৃতিক গ্যাসের চলমান সংকটের কারণে রান্নার কাজে এলপিজির ওপর পরিবারগুলোর নির্ভরতা বেড়েছে। এতে তাদের ব্যয়েও বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই এলপিজির নতুন দাম নির্ধারণ করা হলো।
বিইআরসি জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরের জন্য সৌদি আরামকোর প্রোপেন ও বিউটেনের চুক্তিমূল্য ৩৫:৬৫ অনুপাতে বিবেচনা করে গড় সৌদি চুক্তিমূল্য প্রতি মেট্রিক টন ৬৪৭ দশমিক ৭৫ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।
সৌদি চুক্তিমূল্য, জাহাজ পরিবহন ব্যয়, ব্যবসায়ীদের প্রিমিয়াম এবং প্রতি মার্কিন ডলারের বিপরীতে ১২৩ টাকা ৩০ পয়সা গড় বিনিময় হার বিবেচনায় নিয়ে এলপিজির নতুন দাম নির্ধারণ করেছে কমিশন।
সংশোধিত দামে সাড়ে ৫ কেজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৭২৭ টাকা। সাড়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৬৫২ টাকা, ১৫ কেজির ১ হাজার ৯৮২ টাকা, ১৬ কেজির ২ হাজার ১১৩ টাকা, ১৮ কেজির ২ হাজার ৩৭৮ টাকা, ২০ কেজির ২ হাজার ৬৪২ টাকা, ২২ কেজির ২ হাজার ৯০৭ টাকা, ২৫ কেজির ৩ হাজার ৩০৩ টাকা, ৩০ কেজির ৩ হাজার ৯৬৪ টাকা, ৩৩ কেজির ৪ হাজার ৩৬০ টাকা, ৩৫ কেজির ৪ হাজার ৬২৪ টাকা এবং ৪৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৫ হাজার ৯৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও কমানো হয়েছে। নতুন দামে প্রতি লিটার অটোগ্যাস বিক্রি হবে ৭৩ টাকা ৯ পয়সায়।
তবে রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানির সাড়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এ সিলিন্ডারের দাম ৭৭৬ টাকা ৯৩ পয়সা।
আন্তর্জাতিক বাজারে সৌদি চুক্তিমূল্য নামে পরিচিত প্রোপেন ও বিউটেনের দাম এবং মার্কিন ডলারের বিনিময় হারের ভিত্তিতে ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে প্রতি মাসে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে আসছে বিইআরসি।
তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত দামে এলপিজি প্রায়ই পাওয়া যায় না বলে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন ভোক্তারা। বিইআরসি বলেছে, সংরক্ষণ, বোতলজাতকরণ, বিতরণ বা খুচরা বিক্রয়—সরবরাহব্যবস্থার যেকোনো পর্যায়েই কমিশনের নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে ভোক্তাদের কাছে এলপিজি বিক্রি করা যাবে না।
মতামত দিন