হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল আমদানিতে ইরানের সঙ্গে আলোচনা করেছে সরকার: জ্বালানি বিভাগ
দেশে জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে বলে জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে তেল আমদানির জন্য ইরানের সঙ্গে সরকার আলোচনা করেছে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি রাশিয়া থেকে ৬ লাখ টন ডিজেল আনার প্রক্রিয়াও চলছে।
সোমবার জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী।
তিনি জানান, দেশে বর্তমানে ডিজেলের মজুদ রয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩৩ হাজার টন। এছাড়া ৩০ মার্চ ও ৩ এপ্রিল মিলিয়ে আরও ৫৪ হাজার ৬০০ টন তেল দেশে আসার কথা রয়েছে। আগামী এপ্রিল মাসে মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আরও ১ লাখ ৫৪ হাজার টন তেল আমদানি হবে।
সরকার ইতোমধ্যে ভারত ও ইন্দোনেশিয়া থেকে তেল আমদানি করছে। এছাড়া সিঙ্গাপুর, নাইজেরিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকেও তেল আনার চেষ্টা চলছে।
ব্রিফিংয়ে মনির হোসেন বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশের জাহাজ চলাচলে সমস্যা না থাকলেও সব জাহাজ বাংলাদেশের পতাকাবাহী না হওয়ায় কিছু ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
তিনি আরও জানান, রাশিয়া থেকে দুই মাসের জন্য ৬ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির বিষয়ে আলোচনা চলছে এবং এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে যুক্তরাষ্ট্র-এর অনুমতিও চাওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ভারত থেকে ২২ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি।
বর্তমান পরিস্থিতিতে কৃষিখাতে ডিজেল সরবরাহকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে জ্বালানি পৌঁছে দিতে কাজ করা হচ্ছে।
জ্বালানি বিভাগের দাবি, দেশে তেলের মজুদ যথেষ্ট রয়েছে এবং আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে চলমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার জন্য সরকার নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে