সরকারি চাকরিজীবীদের ২৩ মের ছুটি বাতিল
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আগামী ২৩ মে শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করা হয়েছে। তবে মে মাসের শেষ সপ্তাহে টানা সাত দিনের ছুটি পাচ্ছেন তারা। বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাতে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত টানা ছুটি থাকবে। এই দীর্ঘ ছুটির বিষয়টি সমন্বয় করতে ২৩ মে শনিবারের নির্ধারিত সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করা হয়েছে। ফলে ওই দিন সব সরকারি দপ্তর খোলা থাকবে এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত অফিস করতে হবে।
একই সভায় দেশের স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে ‘জাতীয় পাবলিক টয়লেট নীতিমালা ২০২৬’-এর খসড়ার অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এই নীতিমালার মূল লক্ষ্য হলো সারা দেশে স্বাস্থ্যসম্মত ও মানসম্মত পাবলিক টয়লেট সুবিধার সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা এবং এর রক্ষণাবেক্ষণে জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। বিশেষ করে নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী, বয়স্ক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ব্যবহারবান্ধব টয়লেট সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর এই নীতিমালায় বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। জনস্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতার মানোন্নয়নে এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে মনে করছে সরকার।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, পাবলিক টয়লেটের দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতার জন্য কার্যকর ব্যবস্থাপনা মডেল ও অর্থায়ন নিশ্চিত করা হবে। এ ছাড়া এই ব্যবস্থার নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করে প্রয়োজন অনুযায়ী নীতিমালাটি যুগোপযোগী করা হবে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ব্যবহারবিধি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো বিশেষ কার্যক্রম গ্রহণ করবে। এ ছাড়া ভবিষ্যতে যেকোনো ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পে নারীদের জন্য পৃথক টয়লেটের ব্যবস্থা রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
পরিবেশ সুরক্ষায় এই নীতিমালায় কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সব টয়লেটের বর্জ্য সংরক্ষণের জন্য নিজস্ব সেপটিক ট্যাংক থাকতে হবে। টয়লেটের বর্জ্য যাতে কোনোভাবেই নদী, খাল-বিল বা অন্য কোনো জলাশয়ে মিশে পানিদূষণ না ঘটায়, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া মহাসড়কের উপযুক্ত স্থানে নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা শৌচাগার নির্মাণে স্থানীয় সরকার এবং সড়ক পরিবহন বিভাগকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে এই নীতিমালা বাস্তবায়নে সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে