Views Bangladesh Logo

১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত নিল সরকার

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শস্য, ফসল, মৎস্য ও পশুপালন খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এ তথ্য জানান।

মন্ত্রিপরিষদ সচিবের মতে, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য দরিদ্র কৃষকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশের কৃষিখাতের মেরুদণ্ডকে শক্তিশালী করা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, সরকারি বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংক এবং বেসরকারি ব্যাংকগুলোর কাছে কৃষকদের মোট ঋণ প্রায় ১৫৫০ কোটি টাকা, যা এই মওকুফের আওতাভুক্ত হবে।

ঋণ মওকুফের ফলে আনুমানিক ১২ লাখ কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা ঋণের বোঝা থেকে মুক্ত হবার কারণে তাদের কর্মস্পৃহা বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের কৃষি উৎপাদনেও সহায়ক প্রভাব পড়বে।

ঋণের কিস্তি বাবদ যে অর্থ কৃষক ব্যয় করতেন, সেই অর্থ তারা উন্নত মানের বীজ, আধুনিক সেচ প্রযুক্তি এবং অন্যান্য কৃষি সামগ্রীতে বিনিয়োগ করতে পারবেন।

মওকুফ প্রক্রিয়ার ফলে কৃষকদের ক্রেডিট রেকর্ড উন্নত হবে এবং তারা পুনরায় ব্যাংক থেকে স্বল্প সুদে ঋণ গ্রহণ করতে পারবে। এর ফলে স্থানীয় মহাজনী ঋণের উচ্চ সুদ থেকে কৃষকরা রক্ষা পাবেন।

সচিব জানান, ঋণের বোঝা কমে যাওয়ায় কৃষকরা শস্য, মৎস্য ও পশুপালনে আরও উৎসাহিত হবেন। এতে জাতীয় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে, গ্রাম থেকে নগরমুখী অভিবাসন হ্রাস পাবে এবং গ্রামীণ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসবে।

উল্লেখ্য, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সরকারের ১৯৯১–১৯৯৬ মেয়াদে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের সুদ-আসল মওকুফ করা হয়েছিল, যা কৃষকদের কষ্ট লাঘব করে কৃষি উৎপাদনে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছিল।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ