হাদি হত্যা: কলকাতায় গ্রেপ্তারদের ‘কনস্যুলার অ্যাক্সেস’ পাওয়ার অপেক্ষায় সরকার
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যার ঘটনায় কলকাতায় গ্রেপ্তার তিন জনের সঙ্গে বাংলাদেশ মিশনের মাধ্যমে যোগাযোগের যে অনুমতি চাওয়া হয়েছে, তাতে ভারত সরকারের সায় পাওয়ার অপেক্ষায় আছে সরকার।
সোমবার বিকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তেরে এ কথা জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম
তিনি বলেন, আমরা কলকাতার সাথে কমিউনিকেশনে আছি। ভারতের সাথে কমিউনিকেশনে আছি। যাদেরকে ধরা হয়েছে তাদের কনস্যুলার অ্যাক্সেস পেতে এবং তাদেরকে ফেরত আনতে আমাদের সরকার সর্ব প্রকার চেষ্টা চালাচ্ছে। সেটাতে আমাদের হোম মিনিস্ট্রির কাজ আছে। হোম মিনিস্ট্রি তাদের কাজ করছে। প্রথম দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তাদের কনস্যুলার অ্যাক্সেস আমরা চেয়েছিলাম আগে। এখন তৃতীয় যাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তারও কনস্যুলার অ্যাক্সেস আমরা চেয়েছি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, অ্যাক্সেস পাওয়ার পরে পরবর্তী ইনভেস্টিগেশন হলে আমরা বলতে পারব। কিন্তু আমাদের তরফ থেকে সম্পূর্ণ চেষ্টা চলছে। আমরা আশা করছি ভারত সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবে।
হাদি হত্যার প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদ ও সহযোগী আলমগীর হোসেনকে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগণা জেলার বনগাঁ থেকে গ্রেপ্তারের তথ্য গত ৭ মার্চ দেয় কলকাতা পুলিশের এসটিএফ। পরদিন আদালতের নির্দেশে তাদেরকে ১৪ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।
তাদের গ্রেপ্তারের খবর দেওয়ার দিনই কলকাতা বাংলাদেশের উপ-হাই কমিশন জানায়, তাদের বিষয়ে ভারতের কাছে ‘কন্যসুলার অ্যাক্সেস’ চাওয়া হয়েছে।
এর এক সপ্তাহের মাথায় ১৪ মার্চ কলকাতা পুলিশ জানায়, ফয়সাল ও আলমগীরকে সীমান্ত পার হতে সহায়তায় নাম আসা ফিলিপ সাংমাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরপর তার বিষয়েও ‘কনস্যুলার অ্যাক্সেস’ চাওয়ার কথা জানায় কলকাতার বাংলাদেশ মিশন।
সরকার ‘কনস্যুলার অ্যাক্সেস’ পেয়েছে কি-না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, প্রক্রিয়াধীন আছে।
মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়ার তেল আমদানি প্রসঙ্গে
যুদ্ধের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসী বাংলাদেশিরা ফিরতে চাইলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
এ বিষয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, আমাদের বাংলাদেশি ভায়েরা যারা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে আছে, তারা যারা আসতে পারছে বা আসতে চাচ্ছে, তাদেরকে আমরা আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের মিশনগুলো যেগুলো আছে, তাদের অর্গানাইজ করে তারা যাতে একটা নিরাপদ কোনো ফ্লাইট নিয়ে বা কোনো চার্টার্ড ফ্লাইট নিয়ে তারা আসতে পারে, সেটা আমরা এনশিওর করছি।
আর যারা আসতে পারছে না, তাদের নিরাপত্তার বিষয় নিশ্চিত করার কথা তুলে ধরে শামা ওবায়েদ বলেন, যারা চাকরিরত আছে, তাদের পক্ষে সবার পক্ষে আসা সম্ভব না, তারা ওখানে যেন নিরাপদভাবে থাকে সেই জায়গাটাও আমরা এনশিওর করছি।
যুদ্ধের ধাক্কায় জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার মধ্যে রাশিয়া থেকে তেল আমদানির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সম্মতি চাওয়ার কথা বলেছেন জ্বালানিমন্ত্রী।
রোববার ঢাকায় রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিনের সঙ্গে এ বিষয়ে এ আলাপ হয়েছে কি-না, এমন প্রশ্নে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখন যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে মধ্যপ্রাচ্যে, বাংলাদেশে জ্বালানি মন্ত্রণালয় থেকে আমরা জানতে পেরেছি যে, বর্তমানে কোনো জ্বালানি সংকট এই মুহূর্তে নেই।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে