টোটাল এনার্জিস থেকে ৯ মাসে ১৮ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ফ্রান্সভিত্তিক বহুজাতিক কোম্পানি টোটাল এনার্জিস থেকে আগামী নয় মাসে ১৮ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করবে সরকার। চলতি বছরের অক্টোবর থেকে আগামী বছরের জুন পর্যন্ত প্রতি মাসে দুই কার্গো করে এলএনজি আমদানির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে দুই পক্ষের সম্মতিতে এর চেয়েও বেশি কার্গো কেনা যাবে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাবের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক ক্রয়ের ক্ষেত্রে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি অনুসরণ করে টোটাল এনার্জিসের কাছ থেকে এসব এলএনজি কেনা হবে।
তবে এখনো এলএনজির দাম চূড়ান্ত হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কমিটির অনুমোদনের পর পেট্রোবাংলা ও টোটাল এনার্জিসের মধ্যে দামের বিষয়ে আলোচনা হবে। আলোচনার মাধ্যমে দাম চূড়ান্ত হলে তা সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। অনুমোদন পাওয়ার পর দুই পক্ষের মধ্যে চুক্তি সই হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং অস্থিতিশীল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে দেশের জরুরি গ্যাসের চাহিদা মেটাতে টোটাল এনার্জিসের কাছ থেকে এলএনজি কেনার এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে দুই পক্ষের সম্মতিতে নির্ধারিত ১৮ কার্গোর বাইরে অতিরিক্ত এলএনজিও আমদানি করা হতে পারে।
বাংলাদেশের কাতার ও ওমানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি আমদানি চুক্তি রয়েছে। তবে ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে দেশ দুটি চুক্তি অনুযায়ী এলএনজি সরবরাহ করতে না পারায় দেশে গ্যাসের সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ ও শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে গ্যাসের চাহিদা মেটানো সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সংকট মোকাবিলায় সরকার একদিকে স্পট মার্কেট থেকে তুলনামূলক বেশি দামে এলএনজি কিনছে, অন্যদিকে বিকল্প উৎসও খুঁজছে। এরই অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি গানভরের কাছ থেকে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত এলএনজি আমদানির একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির প্রস্তাবেও অনুমোদন দিয়েছে সরকার।
টোটাল এনার্জিসের সঙ্গে নতুন এই উদ্যোগের ফলে স্বল্পমেয়াদে দেশের গ্যাস সরবরাহে কিছুটা চাপ কমানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ ঝুঁকি মোকাবিলায় বিকল্প উৎস বাড়বে বলে মনে করছে সরকার।
মতামত দিন