মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে গবেষণায় অনুদান দেবে সরকার
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় মুক্তিযুদ্ধের অজানা ইতিহাস ও স্থানীয় পর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং গবেষণাকে উৎসাহিত করতে অনুদান দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এ উদ্যোগে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান উভয়ই অংশ নিতে পারবেন।
মন্ত্রণালয়ের জারি করা নির্দেশিকা অনুযায়ী, গবেষণার ধরন ও পরিসরের ওপর ভিত্তি করে একজন গবেষক বা গবেষণা দলকে সর্বনিম্ন ৫ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদান দেওয়া হবে। এতে মুক্তিযুদ্ধের পাশাপাশি জুলাই অভ্যুত্থান নিয়েও গবেষণার সুযোগ রাখা হয়েছে।
নির্দেশিকায় তিনটি ক্যাটাগরিতে অনুদানের কথা বলা হয়েছে। ‘ক’ শ্রেণিতে দলীয় বা প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণার জন্য ১০ থেকে ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকবে, যার সময়সীমা এক বছর। ‘খ’ শ্রেণিতে একক গবেষণার জন্য ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা দেওয়া হবে, সময়সীমা ৯ মাস। আর ‘গ’ শ্রেণিতে একক গবেষণার জন্য ৫ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হবে, যার মেয়াদ ছয় মাস।
মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (উন্নয়ন) আলমগীর হোসেন জানিয়েছেন, প্রতি বছর কতজন গবেষককে অনুদান দেওয়া হবে, তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। বাজেটের ওপর ভিত্তি করে এ সংখ্যা চূড়ান্ত হবে। তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের পাশাপাশি জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের বিষয়েও গবেষণার সুযোগ রাখা হয়েছে।
গবেষণার ক্ষেত্র হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, গণমানুষের অংশগ্রহণ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের তালিকা যাচাই, গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ, মানবাধিকার লঙ্ঘন, শহীদ বুদ্ধিজীবী, বধ্যভূমি, শরণার্থী জীবন, আন্তর্জাতিক সমর্থনসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি আঞ্চলিক যুদ্ধের ঘটনাপ্রবাহ ও দলিলপত্র সংগ্রহও গবেষণার আওতায় থাকবে।
জুলাই অভ্যুত্থান সম্পর্কিত গবেষণায় এর প্রেক্ষাপট, প্রত্যাশা, শহীদ ও আহতদের পুনর্বাসন, স্মৃতি সংরক্ষণ এবং বীরত্বগাথা তুলে ধরার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
সরকারি ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সদস্য, এমফিল ও পিএইচডি গবেষকসহ অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা আবেদন করতে পারবেন। তবে একই সময়ে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের অধীনে গবেষণায় নিয়োজিত থাকলে আবেদন করা যাবে না।
প্রতিবছর ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে গবেষণা প্রস্তাব আহ্বান করা হবে এবং ৩১ অক্টোবরের মধ্যে জমা দিতে হবে। যাচাই-বাছাই শেষে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে। এ কার্যক্রম পরিচালনায় একটি তহবিল গঠন করা হবে, যা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি, রাজস্ব বাজেট বা উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়নে পরিচালিত হবে।
গবেষণা কার্যক্রম তদারকির জন্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবকে আহ্বায়ক করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। নির্বাচিত গবেষকদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে এবং মন্ত্রণালয় নিয়মিতভাবে এর অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবে।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা আশা করছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের অজানা ইতিহাস উঠে আসবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও প্রামাণ্য তথ্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে