থানা থেকে জেলা পর্যন্ত সাইবার ইউনিট গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ডিজিটাল ও সাইবার স্পেসে অপরাধের বিস্তার মোকাবিলায় পুলিশকে আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষ জনবল দিয়ে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, পুলিশ সদর দপ্তর, ঢাকা মহানগর পুলিশ ও বিভাগীয় পর্যায়ের পাশাপাশি জেলা, থানা ও উপজেলা পর্যায়েও সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় বিশেষ ইউনিট ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
বুধবার দুপুরে সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, অপরাধের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। বিশেষ করে অনলাইন ও সাইবার পরিসরে অপরাধ বাড়ায় অপরাধ শনাক্ত ও তদন্তের জন্য ইলেকট্রনিক যন্ত্রের ফরেনসিক পরীক্ষা এবং তথ্য বিশ্লেষণের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে শিগগিরই আধুনিক সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পুলিশ সদর দপ্তর, ঢাকা মহানগর পুলিশ ও বিভাগীয় পর্যায়ে আধুনিক সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট ও ল্যাব স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। জেলা পর্যায়েও ইউনিট গঠনের পাশাপাশি থানা ও উপজেলা পর্যায়ে এ বিষয়ে দায়িত্বশীল কর্মকর্তা রাখার কথা ভাবা হচ্ছে।
এর আগে ১৫ সেপ্টেম্বর পুলিশ স্টাফ কলেজের পরিচালনা বোর্ডের সভায়ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় একজন অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে পূর্ণাঙ্গ ও প্রাতিষ্ঠানিক সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠনের পরিকল্পনা করছে সরকার।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নতুন ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় শুধু পুরোনো আইন দিয়ে সবসময় কাজ করা সম্ভব নয়। অপরাধের ধরন ও সময়ের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন আইন প্রণয়ন এবং বিদ্যমান আইন সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে। কোনো অপরাধের ক্ষেত্রে আইন দুর্বল হলে গ্রেপ্তারের পরও আসামির দ্রুত জামিন বা মুক্তির সুযোগ তৈরি হতে পারে।
অপরাধ নিয়ন্ত্রণে শুধু অপরাধীকে গ্রেপ্তার ও শাস্তি দেওয়ার ওপর নির্ভর না করে অপরাধের পেছনের কারণ চিহ্নিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। তার মতে, সমাজে সংঘটিত অপরাধ অনেক সময় গভীর কোনো সমস্যার উপসর্গ হিসেবে দেখা দেয়। মাদকাসক্তি ও জুয়ার সঙ্গে অনেক গুরুতর অপরাধের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুয়া ও মাদকের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে আনা গেলে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অপরাধও কমানো সম্ভব হতে পারে। এ জন্য অপরাধের কারণ নিয়ে সমাজকে বিশ্লেষণ ও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
এদিকে ক্রাইম রিপোর্টারদের নিরাপত্তা ও পেশাগত সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়েও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অপরাধ নিয়ে রিপোর্ট করতে গিয়ে কোনো সাংবাদিক ঝুঁকিতে পড়লে সরকারি উদ্যোগ কিংবা করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার মাধ্যমে তাদের সহযোগিতা করা যায় কি না, তা নিয়ে সরকারিভাবে চেষ্টা করার কথা জানান তিনি।
ক্রাইম রিপোর্টিংকে অনেকাংশে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার অংশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের সাংবাদিকতায় ঝুঁকি রয়েছে। অপরাধের ধরন পরিবর্তনের সঙ্গে সাংবাদিকদেরও প্রযুক্তি এবং নতুন ধরনের অপরাধ সম্পর্কে দক্ষতা বাড়াতে হবে।
ক্রাইম রিপোর্টারদের জন্য সনদ দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করার কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ঝুঁকিপূর্ণ কাজ ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে সনদ দেওয়া যায় কি না, তা যাচাই করে দেখার কথা বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, অপরাধ কমাতে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা তৈরিতেও গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আইন প্রণয়ন, আইন প্রয়োগ, বিচারব্যবস্থা এবং সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকার সমন্বয়ের মাধ্যমে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে হবে।
মতামত দিন