জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হলেন আইরিন খান
জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত হিসেবে মানবাধিকারকর্মী আইরিন খানকে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে তাঁকে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, দায়িত্ব পালনকালে তিনি প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেতন-ভাতা এবং অন্যান্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাবেন। বর্তমানে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরীর স্থলাভিষিক্ত হবেন তিনি।
আইরিন খান বর্তমানে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের মুক্তচিন্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাবিষয়ক বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। মানবাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, শরণার্থী সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর দীর্ঘ কর্ম-অভিজ্ঞতা রয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলোর ভাষ্য, বহুপাক্ষিক কূটনীতিতে বাংলাদেশের ভূমিকা আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরা এবং মানবাধিকার, টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন ও জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে দেশের অবস্থান জোরালোভাবে উপস্থাপনের লক্ষ্যেই অভিজ্ঞ ও আন্তর্জাতিকভাবে সুপরিচিত এই ব্যক্তিত্বকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার অঙ্গনে আইরিন খানের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা জাতিসংঘে বাংলাদেশের কূটনৈতিক কার্যক্রমে নতুন গতি আনতে পারে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের নীতি ও অবস্থান তুলে ধরা, উন্নয়ন অগ্রগতি উপস্থাপন এবং বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর নিউইয়র্কে অবস্থিত বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন তিনি। কূটনৈতিক মহলের ধারণা, তাঁর নিয়োগের মাধ্যমে জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে।
মতামত দিন