Views Bangladesh Logo

সুগন্ধি চাল রপ্তানির কোটা অর্ধেক কমাল সরকার, ১০ শর্ত বাধ্যতামূলক

দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে চালের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য মূল্যচাপ নিয়ন্ত্রণে সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমোদিত কোটা ৫০ শতাংশ কমিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে রপ্তানির ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন মূল্য, পণ্যের মান যাচাই, নথিপত্র সংরক্ষণ এবং রপ্তানি আয় দেশে প্রত্যাবাসনসহ ১০টি বাধ্যতামূলক শর্ত আরোপ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এতে আগে অনুমোদন পাওয়া ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানের সুগন্ধি চাল রপ্তানির পরিমাণ অর্ধেকে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশোধিত বরাদ্দ অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং এর মেয়াদ থাকবে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বড় খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে মাঝারি ও ক্ষুদ্র রপ্তানিকারক—কেউই আগের অনুমোদিত পরিমাণের বেশি সুগন্ধি চাল রপ্তানি করতে পারবেন না।

রপ্তানিতে আরোপ করা শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে রপ্তানি নীতি ২০২৪–২৭ যথাযথভাবে অনুসরণ, প্রতিটি চালান রপ্তানির আগে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পণ্যের মান ও সত্যতা যাচাই এবং জাহাজীকরণের পর সংশ্লিষ্ট নথিপত্র বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখায় জমা দেওয়া।

এ ছাড়া ভবিষ্যতে নতুন রপ্তানি অনুমোদনের আবেদন করলে আগের অনুমোদিত কোটার বিপরীতে প্রকৃত রপ্তানির পূর্ণাঙ্গ তথ্য ও প্রমাণ দিতে হবে। সংশোধিত অনুমোদিত পরিমাণের বেশি কোনোভাবেই চাল রপ্তানি করা যাবে না।

আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্য সুরক্ষায় প্রতি কেজি সুগন্ধি চালের সর্বনিম্ন এফওবি রপ্তানিমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ দশমিক ৬০ মার্কিন ডলার। অনুমোদন সম্পূর্ণ অহস্তান্তরযোগ্য হওয়ায় সাব-কন্ট্রাক্ট বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রপ্তানির সুযোগও থাকছে না।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, জনস্বার্থে সরকার যেকোনো সময় কারণ দর্শানো ছাড়াই অনুমোদন বাতিল করতে পারবে। পাশাপাশি রপ্তানি আয় দেশে প্রত্যাবাসনের প্রমাণ হিসেবে প্রোসিডস রিয়ালাইজেশন সার্টিফিকেট বা পিআরসি দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এর আগে দুই দফায় ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে মোট ৪৫ হাজার ২৭০ মেট্রিক টন সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমতি দিয়েছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। তবে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত ১২৯টি প্রতিষ্ঠান মাত্র ২ হাজার ৪১৯ মেট্রিক টন সুগন্ধি চাল রপ্তানি করতে পেরেছে।

সরকারের নীতিগত অবস্থান হলো, রপ্তানি থেকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন গুরুত্বপূর্ণ হলেও খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ ও মূল্যস্থিতিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। সেই বিবেচনায় সুগন্ধি চাল রপ্তানির কোটা কমানোর পাশাপাশি রপ্তানি কার্যক্রমে পরিমাণ, মূল্য, নথিপত্র ও বৈদেশিক মুদ্রা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে কঠোরতা আরোপ করা হয়েছে।

সরকারের এই উদ্যোগের লক্ষ্য সুগন্ধি চালের রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করা নয়; বরং দেশের খাদ্যনিরাপত্তা ও বাজার স্থিতিশীলতা বজায় রেখে নিয়ন্ত্রিতভাবে রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনা করা।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ