স্থায়ী ‘প্রসিকিউশন সার্ভিস’ গঠন সরকারের বিবেচনাধীন: আইনমন্ত্রী
রাষ্ট্রের পক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য একটি স্থায়ী ‘প্রসিকিউশন সার্ভিস’ গঠনের বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, এ বিষয়ে সরকার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে এবং একটি কাঠামোগত ব্যবস্থা তৈরির উদ্যোগ চলছে।
রোববার (৩ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে আইন মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, পার্মানেন্ট প্রসিকিউশন সার্ভিস আমাদের বিবেচনায় রয়েছে। আমরা এটি নিয়ে কাজ করছি। বর্তমানে দেশে পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) নিয়োগ প্রক্রিয়া অনেকাংশে রাজনৈতিক বিবেচনার ওপর নির্ভরশীল। এ ক্ষেত্রে কোনো বাধ্যতামূলক পরীক্ষা নেই, নির্দিষ্ট মেয়াদও নির্ধারিত নয়। তবে প্রস্তাবিত স্থায়ী প্রসিকিউশন সার্ভিস চালু হলে এই ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে। তখন যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য পরীক্ষা চালু হবে এবং প্রসিকিউটররা স্থায়ীভাবে নিয়োগ পাবেন। পাশাপাশি নির্ধারিত বেতন-ভাতা ও সরকারি চাকরিজীবীদের মতো অন্যান্য সুবিধাও পাবেন তারা।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে তৎকালীন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জেলা প্রশাসক সম্মেলনে স্বাধীন প্রসিকিউশন সার্ভিস গঠনের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার বিষয়টি পুনরায় বিবেচনায় এনে এগিয়ে নিতে চায়।
এদিন শুরু হওয়া চার দিনব্যাপী ডিসি সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দুর্নীতির সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না।
আইনমন্ত্রী জানান, আইন মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তরে যদি কোনো দুর্নীতি, অনিয়ম বা অভিযোগ থাকে, তাহলে তা সরাসরি মন্ত্রণালয়কে জানাতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, এসব অভিযোগ আমরা সুনির্দিষ্টভাবে সমাধান করব। মাঠ পর্যায়ে কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
সরকারি সম্পত্তি সংক্রান্ত ফাইল নিষ্পত্তিতে বিলম্ব হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেক সময় এসব ফাইল আসতে দেরি হয়। এটি যাতে না হয়, সে বিষয়ে দৃষ্টি রাখতে বলেছি। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসকদের কাছ থেকে পরামর্শ গ্রহণের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে এসব সমস্যা সমাধান করা যায়।
অভিযোগ জানানোর জন্য আলাদা কোনো হেল্পলাইন চালু করা হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, এটার জন্য আলাদা হেল্পলাইনের প্রয়োজন নেই। সরকারের এক বিভাগ থেকে অন্য বিভাগের মধ্যে সমন্বয় রয়েছে, সেটিই যথেষ্ট।
ডিসিদের পক্ষ থেকে কোনো প্রস্তাব এসেছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার অধিবেশনে এ ধরনের কোনো প্রস্তাব আসেনি। তবে মামলা জট কমাতে মাঠ প্রশাসনের কাছ থেকে পরামর্শ চাওয়া হয়েছে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে