Views Bangladesh Logo

২৯ জনের মৃত্যুর তথ্য পেয়েছে সরকার: সায়েদুর রহমান

 VB  Desk

ভিবি ডেস্ক

রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ি মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় ৩১ জন নিহতের তথ্য দিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। কিন্তু সরকার মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দুপুর ২টা পর্যন্ত ২৯ জনের মৃত্যুর তথ্য পেয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী সায়েদুর রহমান।

আগুনে পোড়া রোগীদের চিকিৎসায় ৭০ থেকে ৮০ ধরনের চিকিৎসা সরঞ্জামের প্রয়োজন হয়। যে পরিমাণ সরঞ্জাম বার্ন ইনস্টিটিউটে মজুদ আছে তা দিয়ে আগামী ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত অগ্নিদগ্ধ রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া যাবে। পরে অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

বিকেলে বিমান দুর্ঘটনায় হতাহতদের চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ব্রিফিংয়ে সায়েদুর জানান, ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ১৯ জন ও বার্ন ইনস্টিটিউটে ১০ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত হয়েছে সরকার। তাদের মধ্যে মাইলস্টোন স্কুলের দুজন শিক্ষকও আছেন। এর বাইরে উত্তরার লুবনা জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের কাছে অগ্নিদগ্ধ দুজনের মরদেহ আছে। কিন্তু বিমান দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার পক্ষে প্রয়োজনীয় তথ্য–উপাত্ত দিতে পারেননি তারা।

তিনি বলেন, ‘উত্তরা আধুনিক মেডিকেল থেকে একজনের মৃতদেহ সিএমএইচে পাঠানো হয়েছে। সেই সংখ্যাটি নিয়ে আমাদের তথ্যের পার্থক্য দেখা দিয়েছে। আমরা বলেছি ১৫ জন, সিএমএইচে ১৫ জনের মৃতদেহ আছে। যদিও আইএসপিআরের তথ্যে ১৬ জন বলা আছে। তথ্যের পার্থক্যগুলো দূর হতে সময় লাগবে’।

‘বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহতদের সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি নিরসনে কিছুটা সময় লাগবে। তবে ধোঁয়াশা কেটে যাবে’- বলেন তিনি।

সায়েদুর রহমান জানান, সর্বশেষ তথ্য অনুসারে সব হাসপাতাল মিলে মোট ৬৯ জন চিকিৎসাধীন আছেন। সিএমএইচে তিনজন ছাড়া অন্য সব রোগী এখন বার্ন ইন্সটিটিউটে চিকিৎসাধীন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে তিনজন ছিলেন। তাদেরকেও ইন্সটিটিউটে আনা হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে ৩০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। দশজনের অবস্থা খুব আশঙ্কাজনক।

বিশেষ সহকারী জানান, সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের সঙ্গে সরকারের যোগাযোগ হয়েছে। মঙ্গলবার মধ্যরাতের দিকে সেখানকার একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও দুজন নার্স বাংলাদেশে আসবেন। তারা এলে অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেয়া হবে। অগ্নিদগ্ধ যেসব রোগীর দেশে চিকিৎসা সম্ভব নয়, তাদেরকে প্রয়োজনে সরকারি খরচে বিদেশে নেয়া হবে।

তিনি বলেন, অজ্ঞাত ছয়জনের মরদেহ সংরক্ষিত আছে। ইতোমধ্যে চারজন অভিভাবক যোগাযোগ করেছেন। তাদের ডিএনএ রাখা হয়েছে। পরীক্ষা করে তাদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। অন্য কেউ এলে তাদেরও ডিএনএ নমুনা রেখে পরীক্ষা করে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।

অতিরিক্ত সংবাদকর্মীদের উপস্থিতির কারণে চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হয় উল্লেখ করে বিশেষ সহকারী বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে সম্ভব হলে ঘণ্টায় ঘণ্টায় সর্বশেষ তথ্য জানানো হবে। সেখান থেকে গণমাধ্যম তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে। তাদের হাসপাতালে ভিড় না জমানোরও অনুরোধ জানান তিনি।

ব্রিফিংয়ে ছিলেন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমসহ জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকরাও।


মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ