ড. ইউনূসের ভিভিআইপি মর্যাদা কমানো নিয়ে বিভ্রান্তি, যা বলছে সরকার
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর ভিভিআইপি মর্যাদার মেয়াদ ছয়মাস কমানো নিয়ে একটি বিভ্রান্তিকর তথ্য গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
অবশেষে এই বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। যেখানে জানানো হয়, ড. ইউনূসের ভিভিআইপি মর্যাদা বা নিরাপত্তা কোনোভাবেই বাতিল বা কমানো হয়নি।
সরকারের উচ্চপর্যায়ের সূত্র ও সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপন বিশ্লেষণ করে জানা যায়, ড. ইউনূস পূর্বঘোষিত নিয়ম অনুযায়ী সম্পূর্ণ এক বছরের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা সুবিধা পাবেন। অর্থাৎ, তিনি বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (এসএসএফ)-এর সুরক্ষার আওতায় থাকবেন নির্ধারিত সময় পর্যন্ত, যা আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল।
সোমবার দেশের বেশ কিছু সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয় যে, ড. ইউনূসের ভিভিআইপি মর্যাদার মেয়াদ ছয় মাস কমিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং আগামী ১০ আগস্টের পর তিনি আর এসএসএফ সুরক্ষা পাবেন না। তবে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, এই দাবি সম্পূর্ণ ভুল এবং বাস্তবতার সঙ্গে এর কোনো মিল নেই।
মূলত, ২৩ এপ্রিল জারি করা নতুন প্রজ্ঞাপনকে কেন্দ্র করেই এই বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে জারি করা পূর্বের আদেশ ‘অক্ষুণ্ণ’ রাখা হয়েছে। সেই আদেশ অনুযায়ী, ড. ইউনূস দায়িত্ব হস্তান্তরের পরবর্তী এক বছর ভিভিআইপি মর্যাদা ও বিশেষ নিরাপত্তা সুবিধা পাবেন।
নতুন প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভবিষ্যতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী বা প্রধান উপদেষ্টা পদ থেকে সরে দাঁড়ানো ব্যক্তিদের জন্য ছয় মাসের ভিভিআইপি নিরাপত্তা প্রযোজ্য হবে। তবে এই নতুন নিয়মটি ড. ইউনূসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়; তার জন্য পূর্বের এক বছরের সুবিধাই বহাল থাকবে।
আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি পরিষ্কার। সুপ্রিম কোর্টের একজন সিনিয়র আইনজীবীর মতে, যেহেতু নতুন প্রজ্ঞাপনে আগের আদেশ বহাল রাখার কথা স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, তাই ড. ইউনূসের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ধরনের আইনি জটিলতা নেই।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ড. ইউনূসের ভিভিআইপি মর্যাদা বা নিরাপত্তা কমানো হয়নি—বরং তিনি পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত একই সুবিধা ভোগ করবেন। তাই এ নিয়ে ছড়িয়ে পড়া গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের কোনো ভিত্তি নেই।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে