Views Bangladesh Logo

সংবিধান সংশোধনে সরকার ও বিরোধী দল একসঙ্গে কাজ করতে পারে: প্রধানমন্ত্রী

জুলাই সনদকে পথনির্দেশক ধরে সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে সরকার ও বিরোধী দল সংসদের ভেতরে একসঙ্গে কাজ করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, সংসদের বাইরে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে জনমত গড়ে তোলা ও সংস্কারমুখী কর্মসূচি গ্রহণের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে প্রধানমন্ত্রী স্বীকার করেন, তাঁদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকতে পারে।

‘কিন্তু মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করা, আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ও আস্থা ফিরিয়ে আনা, কৃষক, শ্রমিক, যুবক ও প্রবাসী উদ্যোক্তাদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার প্রশ্নে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকব,’ বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আজ আমাদের অঙ্গীকার হোক—এই বাংলাদেশে আর কখনো ফ্যাসিবাদ বা স্বৈরাচারের শেকড় গজাতে দেওয়া হবে না এবং কেউ যেন আর কখনো এই দেশকে কোনো পরাশ্রয়ী রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে।’

নাগরিকদের আশ্বস্ত করে তারেক রহমান বলেন, ‘এই সরকার এবং সংসদ জনগণের।’
তাঁর এই বক্তব্য এমন সময় এলো, যখন সরকারি দলের প্রস্তাব অনুযায়ী সংবিধান সংশোধনের জন্য গঠিত হতে যাওয়া সংসদীয় কমিটিতে বিরোধী দলের প্রতিনিধি মনোনয়নের বিষয়ে জামায়াত আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কোনো জবাব দেয়নি।

এর আগে গত ১৬ জুন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন, সরকারের প্রস্তাবিত সংবিধান সংশোধনী কমিটিতে প্রতিনিধি দেবে না বিরোধী দল। তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন, ‘আমরা কেবল সংশোধন নয়, সংবিধানের সংস্কার চাই।’

প্রধানমন্ত্রী জানান, তিনি এমন একটি বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেন, যেখানে উন্নয়ন হবে ন্যায়ভিত্তিক, অর্থনীতি হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক, রাষ্ট্র হবে জবাবদিহিমূলক এবং নাগরিকদের জীবন হবে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও সম্ভাবনাময়।

তিনি বলেন, ‘একটি রাষ্ট্রের প্রকৃত শক্তি তার সম্পদে নয়; বরং সুশাসন, ন্যায়বিচার, জবাবদিহি ও জনগণের আস্থায় নিহিত। টেকসই উন্নয়নের জন্য শুধু অর্থনৈতিক সংস্কার নয়, প্রশাসনের সব ক্ষেত্রে সুশাসন নিশ্চিত করাও জরুরি।’

মানুষ এখন ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ভিত্তিতে গড়ে ওঠা একটি রাষ্ট্র চায় বলে মন্তব্য করেন তারেক রহমান।

‘এই প্রত্যাশা পূরণ করা শুধু বর্তমান সরকারের নয়, সংসদের প্রতিটি সদস্যের দায়িত্ব। নিজ নিজ অবস্থান থেকে একসঙ্গে কাজ করেই আমাদের তা বাস্তবায়ন করতে হবে,’ বলেন তিনি।
গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানবাধিকারের গুরুত্ব তুলে ধরে স্বাধীন বিচারব্যবস্থা এবং মানুষের দোরগোড়ায় ন্যায়বিচার পৌঁছে দেওয়ার ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চালু করা লিগ্যাল এইড কর্মসূচি এই সরকার আরও সম্প্রসারণ করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। চলতি অর্থবছরের বাজেটে বিচার বিভাগের জন্য বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে জানিয়ে তিনি যুক্ত করেন, বিচারকদের আবাসন, গবেষণা কার্যক্রম ও আদালত ভবনের সংকট মোকাবিলায় সুপ্রিম কোর্টের জন্য অতিরিক্ত ১০০ কোটি টাকা এবং আইন মন্ত্রণালয়ের জন্য ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি অর্থমন্ত্রীর প্রতি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মানুষকে সেবা দিতে হলে প্রশাসনকে আরও দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। প্রশাসনকে জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি ন্যায্য বেতন কাঠামো, প্রশিক্ষণ ও অপ্রয়োজনীয় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করে রাষ্ট্রগঠনে তাদের পূর্ণ অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।’

দীর্ঘদিন ধরে অর্থনীতিকে পঙ্গু করে রাখা দুর্নীতি, অনিয়ম ও অপব্যবস্থা দূর করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা এই চ্যালেঞ্জগুলো অতিক্রম করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং দেশের জনগণের কাছে সেই অঙ্গীকারই করছি।’

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ