জেমিনি এআই প্রশিক্ষণে কপিরাইট লঙ্ঘনের অভিযোগ, গুগলের বিরুদ্ধে মামলা
জেমিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল প্রশিক্ষণে অনুমতি ছাড়াই কপিরাইট-সুরক্ষিত বই ব্যবহার করার অভিযোগে গুগলের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মামলা করেছেন বিশ্বের কয়েকটি শীর্ষ প্রকাশক ও একজন লেখক।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়।
মামলার বাদী হিসেবে রয়েছে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান হ্যাশেট বুক গ্রুপ, সেনগেজ লার্নিং ও এলসেভিয়ার। তাদের সঙ্গে বাদী হয়েছেন মার্কিন ঔপন্যাসিক স্কট টুরো।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গুগল বুকস, গুগল প্লে বুকস এবং গুগল স্কলার–এর জন্য প্রকাশকদের কাছ থেকে পাওয়া বইগুলো নির্ধারিত ব্যবহারের সীমা ছাড়িয়ে জেমিনি এআই প্রশিক্ষণে ব্যবহার করেছে গুগল।
বাদীপক্ষের দাবি, বইয়ের অংশ অনুসন্ধানযোগ্য করা বা ই-বুক বিক্রির জন্য অনুমতি দেওয়া হলেও বাণিজ্যিক এআই মডেল তৈরির উদ্দেশ্যে সেগুলো ব্যবহারের কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি।
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, গুগল কোনো অনুমতি বা পারিশ্রমিক ছাড়াই লাখো কপিরাইট-সুরক্ষিত বইয়ের অনুলিপি তৈরি করে জেমিনি প্রশিক্ষণে ব্যবহার করেছে। এমনকি কোম্পানির অভ্যন্তরীণ নথিতেও এ ধরনের ব্যবহারের আইনি ঝুঁকির বিষয়টি উল্লেখ ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
প্রকাশকদের মতে, এভাবে প্রশিক্ষিত এআই খুব অল্প সময় ও কম খরচে নতুন বইয়ের মতো লেখা তৈরি করতে পারে, যা লেখক ও প্রকাশকদের আয় এবং বই বিক্রিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অভিযোগপত্রে উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, জেমিনি মাত্র ২০ মিনিটে প্রায় ৩৯ সেন্ট ব্যয়ে ১০০ পৃষ্ঠার একটি রহস্যোপন্যাসের ধাঁচের লেখা তৈরি করতে সক্ষম।
মামলায় এন. কে. জেমিসিনের ‘দ্য ফিফথ সিজন’ এবং লেমনি স্নিকেটের ‘হৃ কুড দ্যাট বি অ্যাট দিস আওয়ার?’–সহ একাধিক বইয়ের নাম উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এগুলো অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা হয়েছে।
এআই প্রশিক্ষণে কপিরাইটযুক্ত বই ব্যবহারের অভিযোগে এর আগে গুগল, ওপেনএআই, অ্যানথ্রপিক ও মেটার বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা হয়েছে। নতুন এই মামলা সেই চলমান আইনি লড়াইয়েরই অংশ।
বাদীপক্ষ আদালতের কাছে ক্ষতিপূরণ, ভবিষ্যতে এ ধরনের ব্যবহার বন্ধে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা এবং এআই প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহৃত অননুমোদিত বইয়ের সব অনুলিপি ধ্বংসের নির্দেশ চেয়েছে।
এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে গুগল কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
মতামত দিন